খেলা ডেস্ক
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১৭:৩১ | প্রথম আলো
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ কত শত অবিশ্বাস্য গল্পের জন্ম দেয়! ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই রূপকথার গল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে টাটকা ও রোমাঞ্চকর নাম হলো ‘কেপ ভার্দে’।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই আফ্রিকান দেশটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে হিসাব করলে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। প্রথমবার খেলতে আসায় ফুটবল দুনিয়ার অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন, কেপ ভার্দের জন্য বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারাটাই হবে সবচেয়ে বড় উৎসব। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নেমে তারা প্রমাণ করেছে, তারা এখানে কেবল অংশ নিতে আসেনি, বিশ্বকে চমকে দিতে এসেছে!
স্পেনের পর এবার উরুগুয়ে বধের মিশন!
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে কোনো গোল না খেয়ে ম্যাচটি ড্র করেছিল কেপ ভার্দে। সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা। তখন অনেকেই বিষয়টিকে ‘ফ্লুক’ বা ভাগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ মায়ামি স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তা দেখার পর একে আর ভাগ্য বলার কোনো সুযোগ নেই। এবার দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী উরুগুয়েকে ২–২ গোলে আটকে দিয়েছে এই লড়াকু দলটি!
মায়ামি স্টেডিয়ামে যেভাবে লেখা হলো ইতিহাস
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উরুগুয়ের চেয়ে ৪৯ ধাপ পিছিয়ে থাকা কেপ ভার্দে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে থাকে।
- ২১ মিনিটে চমক: ম্যাচের ২১তম মিনিটে একটি চোখ ধাঁধানো সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করে কেপ ভার্দেকে অবিশ্বাস্যভাবে এগিয়ে নেন কেভিন পিনার।
- উরুগুয়ের ঘুরে দাঁড়ানো: প্রথমার্ধের শেষ দিকে উরুগুয়ে গোল শোধ করে সমতায় ফেরে এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
- ৬১ মিনিটে আবারও সমতা: দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তিদের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ৬১তম মিনিটে আবারও সবাইকে অবাক করে দিয়ে গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরায় তারা।
এরপর উরুগুয়ে ম্যাচ জেতার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করেও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে রেফরির শেষ বাঁশির সাথে সাথে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—স্পেন ও উরুগুয়ের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য স্পর্ধা দেখাল কেপ ভার্দে!
ফুটবল নাম বা ইতিহাস চেনে না
ফুটবল মাঠ কখনো জনসংখ্যা কিংবা ফুটবলীয় ঐতিহ্য বা শক্তি চেনে না। মাঠে যারা ভালো খেলবে, ফল তাদের পক্ষেই আসবে। কেপ ভার্দে হয়তো ম্যাচটি জিততে পারেনি, কিন্তু পরপর দুই ম্যাচে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া তো যেকোনো বড় জয়ের চেয়েও আনন্দের! ফুটবল ইতিহাসে কেপ ভার্দের এই লড়াই অন্যতম সেরা জোড়া অঘটন হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উৎস: প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ









