GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / নারী শিক্ষায় এগিয়ে, কাজের বাজারে বাধা—চাই প্রস্তুতি

নারী শিক্ষায় এগিয়ে, কাজের বাজারে বাধা—চাই প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের উপস্থিতি ও শিক্ষায় সাফল্যের প্রতীকী চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে, পরীক্ষাতেও ধারাবাহিক সাফল্য দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এসে সেই অর্জনের সঙ্গে বাস্তব সংযোগটা দুর্বল হয়ে যায়—এটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর প্রবাসী পরিবারের জন্যও এর প্রভাব আছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।

শিক্ষায় গতি, ক্লাসে চিত্রটা বদলাচ্ছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের উপস্থিতি ও শিক্ষায় সাফল্যের প্রতীকী চিত্র

বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলেই যে পরিবর্তন চোখে পড়ে, তা হলো ছাত্রীদের সংখ্যা ও ফলাফলে উন্নতি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী অনুপাত ৫৩:৪৭—এই ইতিবাচক ধারাই ইঙ্গিত করে, মেয়েরা এখন উচ্চশিক্ষার প্রধান অংশ হয়ে উঠছে।

এ ধারাটা কেবল ভর্তি বা উপস্থিতিতে নয়, পরীক্ষার ফলেও দেখা যায়। এইচএসসি পরীক্ষায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের পাসের হার ছিল ৬২.৯৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের ৫৪.৬০ শতাংশ। এমন সাফল্য বাল্যবিবাহ কমাতে সহায়তা করছে এবং নারীদের আত্মবিশ্বাসও বাড়াচ্ছে।

ক্যারিয়ারের দরজায় কেন দেয়াল?

শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও শ্রমবাজারে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে যে তথ্য আসে, সেখানে দেখা যায় ওঠানামা ও সীমাবদ্ধতার চিত্র। একদিকে শ্রমশক্তি জরিপে নারীর অংশগ্রহণ ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুনে ৪৬.৫৯ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৪২.৪০ শতাংশে নেমে আসে।

আরও বড় বিষয় হলো—নারীদের বড় অংশ থাকছে স্বল্প বেতনের চাকরি ও অনানুষ্ঠানিক কাজে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ভালো বেতনের সুযোগে প্রবেশ তুলনামূলক কম। ফলে শিক্ষাজীবনে যে মেধা ও সাফল্য তৈরি হচ্ছে, তা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হিসেবে পূর্ণ রূপ পাচ্ছে না।

সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতায় বৈষম্য

প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির তালিকায়ও বৈপরীত্য স্পষ্ট। ৪৬তম বিসিএসে নারী-পুরুষের অনুপাত ছিল ২৯:৭১। চিকিৎসকদের ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে অনুপাত দাঁড়ায় ৪১:৫৯। শিক্ষকদের ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে মাত্রা আরও চ্যালেঞ্জিং—এখানে নারী-পুরুষের অনুপাত ১৭:৮৩।

এগুলো মিলিয়ে প্রশ্ন দাঁড়ায়—উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের পরও কেন নারীরা সমানভাবে ক্যারিয়ারের মূল স্রোতে পৌঁছাতে পারে না।

প্রবাসী পরিবার ও দেশের ভবিষ্যৎ—এটা কেন জরুরি

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেরই স্বপ্ন থাকে সন্তানদের জন্য নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু শিক্ষার পর কর্মক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি না হলে সেই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে চাপ হয়ে ওঠে। তাই নারীর অর্থনৈতিক অবদান নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষায় সাফল্য নয়, কাজের বাজারে প্রবেশ সহজ করা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ বাড়ানো—এই প্রস্তুতিটাও সমান জরুরি।

যে প্রস্তুতি দরকার

যে পথগুলোতে দ্রুত এগোনো দরকার, সেগুলো হলো—ভালো বেতনের প্রাতিষ্ঠানিক চাকরিতে নারীর প্রবেশ বাড়ানো, কর্মক্ষেত্রে সহায়তামূলক পরিবেশ তৈরি করা, এবং প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগে সমতার সুযোগ জোরদার করা। শিক্ষায় অর্জন যত বড় হবে, অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপান্তর না ঘটলে ব্যবধান ততই বাড়বে।

প্রশ্ন-উত্তর

শিক্ষায় নারীদের অগ্রগতি কি বাস্তব?
হ্যাঁ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও পরীক্ষার ফলাফলে নারীদের ধারাবাহিক সাফল্যের ইঙ্গিত আছে।

কর্মক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?
অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা স্বল্প বেতনের কাজ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে বেশি আটকে থাকেন; প্রাতিষ্ঠানিক ও ভালো বেতনের সুযোগ তুলনামূলক কম।

প্রবাসী পরিবার কীভাবে উপকার পেতে পারে?
নারীদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ারের জন্য এমন সুযোগ-পরিকল্পনা দরকার, যাতে শিক্ষার বিনিয়োগ কর্মজীবনে ফল দেয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: nagorik.prothomalo.com

Social Icons