জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবার বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ধরন বদলাতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়—এ সুযোগটা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভ্রমণ-খরচের চাপ কমাতে পারে।
উপকমিটির কাজ চলছে চার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাবি তথ্য সংগ্রহ করছে। এর জন্য গঠিত চারটি উপকমিটির মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট উপকমিটি তাদের অভিজ্ঞতা ও পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকমিটি এখনও শুরু করেনি
তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গঠিত উপকমিটি এখনো কাজ শুরু করেনি। জাবি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মিটিংয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। মিটিংয়ের নির্দিষ্ট সময় এই মুহূর্তে নিশ্চিত করা হয়নি।
খরচের সম্ভাব্য চিত্র—একেক জায়গায় একেক হিসাব
বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নিলে খরচ কেমন হতে পারে—এ অংশটাও উপকমিটির রিপোর্টে আসছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হলে শিক্ষার্থীপ্রতি ৪৬৫ থেকে ৪৯০ টাকা এবং ৫ হাজারের কম হলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ৩৯৫ থেকে ৪০০ টাকা খরচের তথ্য পাওয়া গেছে।
শুধু ব্যবস্থা নয়, সুষ্ঠু পরীক্ষা—টেকসই সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট উপকমিটির সদস্যরা বলেছেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাহিদা আছে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার। তারা প্রস্তুতও আছেন, তবে প্রতিটি ব্যবস্থার ভালো-মন্দ আছে—সেসব বিবেচনায় পরবর্তী মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আগেই জাবি পৃথক চারটি উপকমিটি গঠন করেছে। তাদের তথ্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই পরবর্তী ধাপ ঠিক করবে বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষা হলে ঢাকামুখী খরচ ও যাতায়াত চাপ কমতে পারে। দূর থেকে অংশ নিতে হয়—এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই স্বস্তির ইঙ্গিত।
প্রশ্ন-উত্তর
জাবি কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায়?
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকমিটির অবস্থা কী?
জাবি জানিয়েছে, ওই উপকমিটির প্রতিবেদন এখনও আসেনি এবং কাজ শুরু হয়নি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে?
চার উপকমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









