চট্টগ্রামে সেলাই শিখে উপার্জনের স্বপ্ন দেখানো নারীদের জন্য সুখবর মিলেছে। প্রশিক্ষণ শেষে ‘মেশিন নেই’—এই শঙ্কা কাটিয়ে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ২০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ চলছিল, মেশিনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়

দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই—এ বিষয়টি তার নজরে আসে। ফলে শেখা দক্ষতা নিয়মিত চর্চায় ধরে রাখার অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ৫ মেশিনের প্রতিশ্রুতি
এ অবস্থায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক। তার আহ্বানে স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন ৫টি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ১৫টি মেশিন দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
মেশিন পেলে ঘরে কাজের সুযোগ
মুরাদপুরের প্রশিক্ষণার্থী নাছরিন ফারজানা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পাওয়ার বিষয়টি তিনি কল্পনাতেও আনেননি। তিন সন্তানের মা নাছরিনের স্বামী আগে প্রবাসে ছিলেন; বর্তমানে তিনি বেকার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেখার পর মেশিন না থাকায় কাজ ধরে রাখতে পারার শঙ্কা ছিল। মেশিন পেলে ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
শুধু শেখা নয়, দক্ষতায় টিকতে নির্দেশনা
উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে কীভাবে তারা কাজের সুযোগ পাবে—এ বিষয়ে পরিকল্পনা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। প্রশিক্ষণ পরিচালনায় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির ওপরও জোর দেন জেলা প্রশাসক।
আয়োজকেরা জানান, পাঁচটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ১০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ‘চট্টগ্রামে ২০ নারী সেলাই মেশিন’—এই উদ্যোগ তাই কেবল মেশিন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; প্রশিক্ষণের সুফল বাস্তবে টিকিয়ে রাখার পথও তৈরি করছে।
প্রশ্নোত্তর
কাদের জন্য এই সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা?
চট্টগ্রামের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে চলা দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২০ নারী পাচ্ছেন মেশিন।
জেলা প্রশাসকের ভূমিকা কী ছিল?
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীদের মেশিনের ঘাটতির কথা জানার পর জেলা প্রশাসক নিজেই উদ্যোগ নেন এবং সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে মেশিন নিশ্চিত করার পথ তৈরি করেন।
এ উদ্যোগে লাভ কী?
প্রশিক্ষণ শেষে হাতে মেশিন থাকায় নারীরা নিয়মিত কাজ শিখে ধরে রাখতে পারবেন এবং ঘরে বসে আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









