ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যবসায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন তারা।
বিধি অনুযায়ী সিনিয়র সভাপতির দাবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ বিধিমালা বলছে, একটি বিভাগে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষকই সভাপতি হবেন। পরে রোটেশন পদ্ধতিতে নিয়োগ হবে। যোগ্য শিক্ষক না থাকলে বর্তমান সভাপতিকে পুনঃমেয়াদের জন্য নিয়োগ দেওয়ার কথাও আছে।
মার্কেটিংয়ে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্যজন
রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী মার্কেটিং বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক আছেন, সবাই সহকারী অধ্যাপক। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের আগে সভাপতির দায়িত্ব ছিল, আর আরেকজন শিক্ষকের সভাপতির মেয়াদ ১৭ আগস্ট শেষ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী বাকি তিনজনই সভাপতি হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত বলে দাবি করা হচ্ছে।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়ম না মেনে মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে। তিনি মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক নন—এ কারণে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে ব্যবসায় প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, আগের মতো বিভাগের ভেতর থেকেই সিনিয়র শিক্ষকের নেতৃত্ব থাকলে বিভাগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি হলে সেশনজটসহ নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তাদের।
রেজিস্ট্রারের ব্যাখ্যা
রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেছেন, নিয়মানুযায়ী বিভাগের পরবর্তী সিনিয়রকেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড়।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরাসরি শিক্ষাজীবনের গতি ঠিক করে। সেশনব্যবস্থা, বিভাগের কার্যক্রম ও কোর্স রুটিন—সব ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের ভূমিকা থাকে। তাই মার্কেটিং বিভাগের এই নিয়োগ-প্রতিবাদ বিষয়টি ইবির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন-উত্তর
কী কারণে আন্দোলন শুরু হয়েছে?
মার্কেটিং বিভাগে বিধিমালা মেনে যোগ্য শিক্ষকের বদলে অন্য বিভাগের শিক্ষককে সভাপতি নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি কী?
নিজ বিভাগ থেকেই যোগ্য সিনিয়র শিক্ষকের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ।
নিয়োগে কার কথা বলা হচ্ছে?
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ মিয়াকে সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









