GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / ঢাবি মুসলিম হলে প্রভোস্ট কক্ষে সিসিটিভি দেখাল প্রশাসন

ঢাবি মুসলিম হলে প্রভোস্ট কক্ষে সিসিটিভি দেখাল প্রশাসন

ঢাবি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের করিডোর এবং সিসিটিভি ক্যামেরার প্রতীকী ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রভোস্টের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রক্টরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সামনে দেখানো হয়েছে—যা প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্যও নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রক্টরের কার্যালয়ে ফুটেজ প্রদর্শন

ঢাবি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের করিডোর এবং সিসিটিভি ক্যামেরার প্রতীকী ছবি

প্রভোস্টের কক্ষে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মঙ্গলবার প্রক্টরের কার্যালয়ে দেখানো হয়। ভুক্তভোগী ও হল সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ফুটেজটি তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে। এতে সময় অনুযায়ী কক্ষের ভেতরের নানা পদক্ষেপ দেখা গেছে বলে বর্ণনা দেন ভুক্তভোগীর বন্ধু।

ডাকা, ধমক, সময় দাঁড়ানো—ভিডিওতে কী দেখা যায়

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বন্ধু আবির হাসানের দাবি, ফেসবুকে প্রভোস্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার জেরে ইব্রাহিমকে হল কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। আবিরের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ধমক দেওয়া এবং কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এরপর ইব্রাহিমের মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ইব্রাহিম বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রভোস্ট দরজার সামনে গিয়ে পথ আটকান এবং হলের কয়েকজন স্টাফকে সেখানে ডাকা হয়—এমনটাও বলেন আবির। একপর্যায়ে প্রভোস্ট ইব্রাহিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে হলের এক স্টাফের কাছে দেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে ফোনটি ইব্রাহিমকে ফেরত দেওয়া হয় বলে বর্ণনা আসে।

লিখিত বক্তব্য, পুনর্লিখন ও হুমকি—অভিযোগ

আবির হাসান বলেন, এ সময় ইব্রাহিমের পরিবারের সঙ্গে হলের একজন স্টাফ ফোনে কথা বলেন। বিষয়টি জানার পর ইব্রাহিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও জানান তিনি। পরে তাকে একটি লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয় এবং প্রভোস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বক্তব্যে বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়।

আবিরের অভিযোগ, প্রথম লিখিত বক্তব্য প্রভোস্টের পছন্দ না হওয়ায় ইব্রাহিমকে সেটি পুনরায় লিখতে বলা হয়। পরে ফেসবুকে প্রভোস্টের প্রশংসা করে পোস্ট দিতে এবং হল কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি কাউকে না জানানোর নির্দেশও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। আবিরের ভাষ্য, না হলে হলের সিট ও ছাত্রত্ব বাতিল এবং সাইবার আইনে মামলা করার হুমকির কথাও বলা হয়।

তদন্তে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দাবি

ফুটেজ দেখার পর ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি আবু নাঈম তদন্ত চলাকালে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন প্রভোস্ট দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেওয়ার দাবিও তোলেন। তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও হলের কোষাধ্যক্ষ আল আমিন ভিপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ভিডিও শুধু এটাই না, বাকিগুলোও তদন্ত হবে; সব দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটিতে আল আমিন শিকদার প্রভোস্টের নিজ বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এ কথা বলেন আবির হাসান। অন্যদিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, প্রশাসনের সামনে ভুক্তভোগী, হল ভিপি ও ভুক্তভোগীর বন্ধুর উপস্থিতিতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে এবং ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রবাসী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

হলের মতো আবাসিক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মোবাইল ও যোগাযোগের অধিকার এবং প্রশাসনিক আচরণ—সবকিছুই সরাসরি পরিবারের উদ্বেগের বিষয়। ফুটেজ যাচাই ও তদন্ত এগোলে প্রবাসী অভিভাবকদেরও সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

ফুটেজটি কোথায় দেখানো হয়েছে?
প্রক্টরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের সামনে ফুটেজ দেখানো হয়েছে।

অভিযোগে মূলত কী বলা হচ্ছে?
প্রভোস্টের কক্ষে ডেকে হেনস্তা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ।

তদন্তে কী ধরনের দাবি উঠেছে?
প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কক্ষে তালা দেওয়ার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons