ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধে এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর সুপারিশ এসেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিতে হবে—তবে আন্দোলনকারীদের দাবি এখনো মেলেনি।
বর্তমান নিয়ম কী বলে

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীরা পূর্বানুমতি ছাড়া আবাসিক হল থেকে বের হওয়া বা হলে প্রবেশ করতে পারেন না। এই সময়ের মধ্যে হলে প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট হাউস টিউটরের কাছ থেকে লেট পাস নিতে হয়।
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশ
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জানান, শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
কার্যকর করতে সিন্ডিকেট অনুমোদন জরুরি
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির এই সুপারিশ কার্যকর করতে সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সিদ্ধান্তটি মাঠে গড়াতে আরও এক ধাপ পেরোতে হবে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ‘অবরোধবাসিনী’র নেত্রী জানিয়েছেন, তারা চব্বিশ ঘণ্টা প্রবেশাধিকার চান; সেখানে মাত্র এক ঘণ্টা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আন্দোলনের প্রতি ‘উপহাস’ হিসেবে দেখছেন তিনি। তাদের দাবি, হলের গেট খোলা রাখার ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব নেওয়ার অনীহার কারণেই এই সীমিত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মও প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তার যুক্তি নিয়ে। তাদের বক্তব্য, নিরাপত্তা যদি মূল বিবেচনা হয়, তাহলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কীভাবে সুবিধা থাকে—সেই প্রসঙ্গও বিবেচনায় আসা দরকার। তারা আরও বলছেন, দিনে ক্যাম্পাসেই নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হন।
‘নারী হল সংস্কার আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবার কথা বলা হবে। দাবি না মানলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত রয়েছে।
আন্দোলনের তিন দফা দাবি
নারী হলে প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ২৭ জুলাই থেকে আন্দোলন করছেন। তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ বাতিল করে সার্বক্ষণিক নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; নারী শিক্ষার্থীদের মা-বোনসহ নারী স্বজনদের হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া; এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে আবাসিক নয় এমন শিক্ষার্থী ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের যে কোনো নারী হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া ও অনুমতি সাপেক্ষে রাতে অবস্থানের ব্যবস্থা করা।
প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আবাসন ও নিরাপত্তা—দুইটাই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন চলাফেরায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। সিদ্ধান্তটি সিন্ডিকেটে কীভাবে যায়, সেটাই এখন নজরে।
সংক্ষেপে জানা জরুরি
- রাত ১০টা–সকাল ৬টা পর্যন্ত আগে পূর্বানুমতি ছাড়া হলে যাওয়া/থাকা সম্ভব নয়।
- এ সময়ে হলে প্রবেশে আগে হাউস টিউটরের লেট পাস লাগে।
- সময় এক ঘণ্টা বাড়াতে সুপারিশ হলেও তা কার্যকর হতে সিন্ডিকেট অনুমোদন লাগবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









