রাজস্ব সম্মেলনে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যা সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে—আর সেই বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও সেবার সম্পর্ক যেমন সরাসরি, তেমনি রাজস্ব আহরণ ঠিকমতো না হলে দেবে প্রভাব—এটাই এই আয়োজনের মূল টান।
এনবিআরকে দুই প্রতিষ্ঠানে ভাগ করার সিদ্ধান্ত

রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কাঠামোয় একটি প্রতিষ্ঠান রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে, অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।
৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য সামনে
সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। চ্যালেঞ্জ আছে—তবে দেশের প্রয়োজনেই এই টার্গেট বাস্তবায়নের কথাও উঠে আসে।
ডিজিটাল, তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জোর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার, করদাতাদের আস্থা বাড়ানো এবং কর ব্যবস্থাকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে আনা হয়—যাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আসে এবং অনিশ্চয়তা কমে।
মাঠপর্যায়ের জনবল-অবকাঠামো-পরিবহন সংকটের কথা
দিনব্যাপী সম্মেলনে এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব আহরণে নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সেসব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে লোকবল, অবকাঠামো ও পরিবহন সংকটের কারণে রাজস্ব আহরণ কঠিন হয়ে পড়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এনবিআরের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি সংস্থার আন্তঃসংযোগের ঘাটতির কথাও উঠে আসে।
সম্মেলনে রাজস্ব প্রশাসনের ভেতরের সংকটের চিত্রও আলোচনা হয়। উদাহরণ হিসেবে শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। সামগ্রিকভাবে লক্ষ্য ছিল—কোথায় আটকে যাচ্ছে, কেন দেরি হচ্ছে, কীভাবে প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা যায়—তা খুঁজে বাস্তব পদক্ষেপের পথ বের করা।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
রাজস্ব আহরণ ঠিকমতো হলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ে—সেবা, অবকাঠামো ও নীতির ধারাবাহিকতা সহজ হয়। প্রবাসী আয়ের বড় অংশ যখন অর্থনীতির কর্মধারায় ফিরে আসে, তখন সেই টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি দাঁড় করাতে রাজস্ব ব্যবস্থার কার্যকারিতা খুবই জরুরি। এই সম্মেলনে মাঠপর্যায়ের বাধা কমিয়ে লক্ষ্য অর্জনের যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত করদাতা-সংশ্লিষ্ট সবার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে যা জানা গেল
- রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের সমস্যা শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
- এনবিআরকে দুই স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে ভাগ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আলোচনায় থাকে।
- ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং হয়রানিমুক্ত সেবার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রশ্ন-উত্তর
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে কী বলেছেন? মাঠপর্যায়ের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এনবিআরকে ভাগ করা হবে কেন? রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজ আলাদা করে আরও কার্যকর করার জন্য।
ভবিষ্যৎ কৌশল হিসেবে কী গুরুত্ব পেয়েছে? ডিজিটাল ও তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, কর ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং হয়রানি কমানোর দিকগুলো।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









