GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিনোদন ও সংস্কৃতি / ইতালিতে নগরবাউলের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার ইউরো প্রতারণার অভিযোগ, যা বললেন জেমসের ম্যানেজার

ইতালিতে নগরবাউলের বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার ইউরো প্রতারণার অভিযোগ, যা বললেন জেমসের ম্যানেজার

ইতালির রোমে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী মাহফুজ আনাম জেমসের ব্যান্ড ‘নগরবাউল’-এর বিরুদ্ধে ৩৫ হাজার ইউরো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন এক বাংলাদেশি কনসার্ট আয়োজক। তবে অভিযোগটি অস্বীকার না করলেও জেমসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রোমের একটি কারাবিনিয়েরি পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগ করেন কনসার্ট আয়োজক আবুল মোয়াজ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সঙ্গে একাধিক নথিও জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ইতালির রোম ও ভেনিসে দুটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য নগরবাউল জেমসের দলকে মোট ৩৫ হাজার ইউরো দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি জেমসের দলের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বা সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগকারীর দাবি।

তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া নয়। এখন পর্যন্ত কোনো আদালত এ বিষয়ে কোনো রায় দিয়েছেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানিয়েছেন, যেকোনো ব্যক্তি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়াকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।

তার ভাষ্য, বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ায় নগরবাউলের পক্ষ থেকেও আইন মেনেই এর জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে আয়োজকদের একটি চুক্তি ছিল এবং সেই চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে কি না, সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

রোমের কনসার্টকে কেন্দ্র করে নগরবাউল ও স্থানীয় আয়োজকদের মধ্যে এর আগেও বিরোধের খবর সামনে আসে। কনসার্টের অগ্রিম অর্থ, পারফরম্যান্স ফি এবং টিকিট বিক্রির অর্থ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও জেমসের প্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অভিযোগকারী আয়োজকের দাবি, রোম ও ভেনিসের দুটি অনুষ্ঠানের জন্য যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল, সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন হয়নি। অন্যদিকে জেমসের ম্যানেজারের দাবি, পারফরম্যান্স ফি ও চুক্তির শর্ত নিয়েও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমস্যা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এর পাশাপাশি রোমে কনসার্টের সময় জেমসের দলের জন্য বরাদ্দ একটি হোটেল কক্ষ অপরিচ্ছন্ন রেখে যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। তবে জেমস ও তার ম্যানেজার জানিয়েছেন, আলোচিত কক্ষটি জেমসের ব্যবহৃত কক্ষ ছিল না। দলের অন্য একজন সদস্য সেখানে ছিলেন বলে তাদের দাবি।

জেমস নিজেও এ বিতর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। হোটেল কক্ষ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবির সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততাও অস্বীকার করেছেন তিনি।

তবে ৩৫ হাজার ইউরো নিয়ে প্রতারণার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের নথিতে জেমস ব্যক্তিগতভাবে ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন বা ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণা করেছেন—এমন দাবি প্রমাণিত হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই।

নগরবাউলের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযোগের জবাব গণমাধ্যমের বিতর্কের মাধ্যমে নয়, প্রয়োজন হলে আইনিভাবে দেওয়া হবে।

এদিকে চলমান বিতর্কের মধ্যেই জেমস ও নগরবাউলের ইউরোপ সফরের অন্যান্য কনসার্টের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এর আগে রোমে ১৬ আগস্ট জেমসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে তাদের কনসার্টের সূচিও রয়েছে।

সব মিলিয়ে আয়োজক ও নগরবাউলের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। অভিযোগটি পুলিশের কাছে জমা পড়লেও এর সত্যতা বা দায় এখনো আইনিভাবে নির্ধারিত হয়নি। ফলে তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখার সুযোগ রয়েছে।

Social Icons