বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীদের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাহানারা ইমাম হলের মূল ফটকে রাত ১১টায় তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে হল প্রশাসন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) হল সংসদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট জাহানারা ইমাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্রতিদিন রাত ১১টার পর হলের মূল ফটকে তালা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছাত্রীদের ওই সময়ের পর হলের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, এ ধরনের সিদ্ধান্ত তাদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করে এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের পর মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক। অনেকেই মনে করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ না করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সমালোচনা বাড়তে থাকায় শুক্রবার জাহানারা ইমাম হল সংসদের জরুরি সভা ডাকা হয়। সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে রাত ১১টায় মূল ফটকে তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
হল প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনও অবস্থান নেয়। ছাত্র শক্তি, নারী নিরাপত্তা মঞ্চ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের বিধিনিষেধকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওই হলে দীর্ঘদিন ধরে রাত ১০টার পর বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা। তিনি জানিয়েছেন, হলে রাত ১০টার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে যাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর রাতে বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি রেজিস্ট্রি খাতায় নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে হল থেকে বের হতে পারেন। ফলে রাত ১০টার পর কাউকে হলের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না—এমন কোনো নিয়ম সেখানে কার্যকর নেই বলে দাবি করেন তিনি।
জাহানারা ইমাম হলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এ বিতর্কের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের চলাচলের স্বাধীনতা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে সেই ব্যবস্থা যেন শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত না করে। তাদের দাবি, আবাসিক হলের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মতামত ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া উচিত।









