GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ওপর চটলেন ট্রাম্প

অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ওপর চটলেন ট্রাম্প

সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সংবাদকর্মীদের কঠিন প্রশ্নের মুখে তার প্রতিক্রিয়া আবারও আলোচনায় এসেছে। এবার CNN-এর এক সাংবাদিককে একাধিকবার ‘চুপ থাকতে’ বলার পাশাপাশি ‘ফেক রিপোর্টার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে একটি অনুষ্ঠানের সময়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন তিনি।

হোমস জানতে চান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন কি ট্রাম্পকে সরাসরি ওই সামরিক মহড়া কমাতে বলেছিলেন এবং এ বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না।

প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। প্রথমে সাংবাদিককে চুপ থাকতে বলেন তিনি। এরপর কোন সংবাদমাধ্যম থেকে এসেছেন, সেটি জানতে চান। হোমস CNN-এর পরিচয় দেওয়ার পর ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমকে ‘ফেক নিউজ’ বলে মন্তব্য করেন।

কিন্তু সাংবাদিক প্রশ্ন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ও অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ করেন এবং একাধিকবার তাকে চুপ থাকতে বলেন।

এরপরও সাংবাদিক জানতে চান, সামরিক মহড়া কমানোর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না। জবাবে ট্রাম্প তাকে ‘ফেক রিপোর্টার’ বলেও আক্রমণ করেন।

ওই সময় ওভাল অফিসে এক কিশোরকে সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সাংবাদিকের প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে ট্রাম্প উপস্থিত কিশোরের দিকেও ফিরে যান এবং সাংবাদিকের আচরণ অসম্মানজনক কি না—এমন প্রশ্ন করেন।

ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকের একটি পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন প্রতিক্রিয়া নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

মূল প্রশ্নটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে ঘিরে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মার্কিন সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বা যোগাযোগ কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না—সেটিই পরিষ্কার করতে চাইছিলেন সাংবাদিক।

পরে অন্য সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা তার যোগাযোগের প্রচেষ্টায় সাড়া দিয়েছেন। তবে দুই নেতার মধ্যে ঠিক কী ধরনের বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বা সামরিক মহড়া কমানোর বিষয়টি সেখানে আলোচিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে গণমাধ্যমের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। নিজের প্রথম মেয়াদ থেকেই CNNসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত ‘ফেক নিউজ’ বলে আক্রমণ করে আসছেন তিনি। যেসব প্রতিবেদন বা প্রশ্ন তার পছন্দ হয় না, সেগুলোকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে তার একাধিক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা গেছে। সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।

ওভাল অফিসের ওই অনুষ্ঠানেও শুধু উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত কিছু প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ট্রাম্প। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি রণতরীতে সেনাদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

পরে একই দিনে ট্রাম্পের কাছে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা নিয়েও প্রশ্ন করেন ক্রিস্টেন হোমস। ওই প্রশ্ন ঘিরেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে।

CNN অবশ্য তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির বক্তব্য, প্রেসিডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন প্রশ্ন করা একজন সাংবাদিকের দায়িত্বেরই অংশ।

এ ঘটনা আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও মূলধারার গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। একদিকে ট্রাম্পের দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যম তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে; অন্যদিকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সংবাদকর্মীদের রয়েছে।

বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সংবেদনশীল কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কঠিন প্রশ্নের মুখে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগামী দিনেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Social Icons