এইচএসসি ফরম পূরণের নামে প্রতারণা করে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের জের ধরে ছয় শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফরম না পাওয়ায় চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
ফরম পূরণের প্রতিশ্রুতিতে টাকা আদায়

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, কলেজের এইচএসসি নির্বাচনি (টেস্ট) পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিযুক্ত যুবক ইবারুল ইসলাম চৌধুরী (জিসান)।
তিনি নিজেকে কখনো ‘জুলাই যোদ্ধা’ আবার কখনো ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দেন। পরশুরাম বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় বসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি ও ছবি নেন। পাশাপাশি জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
টাকা নেওয়া হলেও ফরম জমা হয়নি
অভিযোগ অনুযায়ী, এত টাকা নেওয়ার পর তা নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ সম্পন্ন না হওয়ায় ছয় শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
গোপন রাখতে ভয় দেখানো হয়
ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ পরীক্ষা দিতে দেবেন না—এমন ভয় দেখিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান একজন অভিভাবক। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নিজের ‘প্রভাবের’ কথা বলে টাকাগুলো আদায়ের অভিযোগও আছে।
কলেজের ব্যাখ্যা ও নিয়মের কথা
আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) দিদারুল আলম বলেন, নির্বাচনি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের রেজুলেশনের মাধ্যমে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিন বা চার বিষয়ে অকৃতকার্যদের ক্ষেত্রে কলেজ ফলাফলের মান রক্ষায় সুপারিশ এলেও ছাড় দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়। অবৈধভাবে লেনদেন করা হলে শিক্ষার্থী ও গ্রহীতা—দুই পক্ষই অপরাধী বলে মন্তব্য করেন অধ্যক্ষ।
থানায় অভিযোগ না থাকায় অপেক্ষা
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ইবারুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানান এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়ম মেনে ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে ফরম পূরণ করানোর চেষ্টা হলে সেটা শিক্ষার্থী ও গ্রহীতা উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
শেষ কথা: প্রবাসী অনেক পরিবারের জন্য শিক্ষা খরচ বড় চাপ। এইচএসসি ফরম পূরণে প্রতারণা হলে সময়, অর্থ—দুইটাই ক্ষতির মুখে পড়ে। ভুক্তভোগীদের উচিত দ্রুত লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রমাণসহ বিষয়টি নিশ্চিত করা।
প্রশ্নোত্তর
কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন?
অভিযোগ অনুযায়ী ছয় শিক্ষার্থী ফরম পূরণ সম্পন্ন না হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
টাকাগুলো কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?
রেজিস্ট্রেশন কার্ড, জন্মনিবন্ধনের কপি ও ছবি নেওয়ার পর জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ আছে।
থানায় এখন কী অবস্থা?
ওসির ভাষ্য অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ এলে তদন্ত হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









