যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নতুন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পণ্যবাহী জাহাজ, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং ডিজিটাল সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান বিকল্প বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, বিশেষ করে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে।
কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরান প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি এবং ৬৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
ইরানের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে চীন। দেশটি ইরানের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ চীনে যায়।
অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরাকও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা পূরণে ইরানের ওপর নির্ভর করে দেশটি। পাশাপাশি খাদ্য, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতেও দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই পথ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে তুরস্ক ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে পুরোপুরি অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হলে চীন, ইরাক ও তুরস্কের মতো বড় অংশীদারদের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। কিন্তু এসব দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই লক্ষ্য অর্জন বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।









