সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার বাস্তবতা সামনে রেখে ‘নারী কোটা’ ফেরানোর জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তাদের মতে, এটি শুধু সুবিধা নয়—সমঅধিকার আর অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের একটি নীতিগত বিষয়।
পিএসসির নিয়োগ তথ্য আর প্রতিনিধিত্ব কমা প্রসঙ্গ

মহিলা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি পিএসসির সাম্প্রতিক নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি কেবল পরিসংখ্যানগত নয়; নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কেন সমান প্রতিযোগিতায় পৌঁছানো কঠিন
পরিষদের মতে, উচ্চশিক্ষায় নারীর তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ, পরিবার ও সমাজে দায়িত্বের অসম বণ্টন, নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার কারণে নারীরা সমান প্রতিযোগিতার অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন না। ফল হিসেবে সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়েও তাদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।
কোটা পুনর্বহালকে ইতিবাচক ও স্বীকৃত ব্যবস্থা বলছে মহিলা পরিষদ
এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহাল জরুরি বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইতিবাচক ব্যবস্থার কথাও বিবৃতিতে এসেছে এবং জাতিসংঘের সিডও সনদেও এ ধরনের উদ্যোগের উল্লেখ রয়েছে।
পরিষদের যুক্তি, নারীদের জন্য কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা বহাল রাখা শুধুই অধিকার রক্ষার বিষয় নয়। বরং একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত বলেও তারা দাবি করেছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এখনকার পদ্ধতি
বিবৃতিতে ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের আগের কাঠামোর প্রসঙ্গও এসেছে। বলা হয়, তখন সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা ছিল; এতে নারী কোটা ছিল ১০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পাশাপাশি কোটার ভিত্তিতেও নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এরপর প্রজ্ঞাপন আকারে তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জারি হয় এবং বর্তমানে এ পদ্ধতিই চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহিলা পরিষদ তাই সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন না করা পর্যন্ত নারীদের জন্য কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা বহাল রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
প্রবাসী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
কোটা নিয়ে আলোচনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই ধরনের নীতিই নির্ধারণ করে—সরকারি চাকরিতে সুযোগ কতটা সমানভাবে পৌঁছায়। নারীরা ন্যায্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারলে পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার—সবদিকেই প্রভাব পড়ে।
প্রশ্নোত্তর
নারী কোটা ফেরানোর দাবি কে জানিয়েছে?
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
দাবির পেছনে কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?
পিএসসির নিয়োগ তথ্য ও প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি।
মহিলা পরিষদের মূল বক্তব্য কী?
নারীর সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









