প্রতিনিধি, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ | প্রথম আলো
কুমিল্লার মেঘনায় রূপান্তর পরিবহনের এক বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সোলাইমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সোলাইমান মিয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদল।
গতকাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেঘনা উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মারধরের ঘটনাটি ঘটে। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উদ্দীন স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে গতকাল রাতেই এই নোটিশ দেওয়া হয় এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
বাস মালিকপক্ষের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা সোলাইমান মিয়া ও তাঁর সফরসঙ্গী টিকিট না কেটেই জোরপূর্বক বাসে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় বাসের সহকারী নেছার উদ্দিন তাঁদের টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে ওঠার অনুরোধ করলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সোলাইমান মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে চালক মো. রাকিব ও সহকারী নেছার উদ্দিনকে মারধর করেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে বিকেল পর্যন্ত রূপান্তর পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ থাকে, যা ঢাকাগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। পরে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করেন। আহত বাসচালক ও সহকারীকে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন উভয় পক্ষ?
অভিযোগের বিষয়ে মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোলাইমান মিয়া বলেন, বাসের বক্সে মালামাল নেওয়া নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন বাসের সহকারী। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে নেছার উদ্দিন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
অন্যদিকে, মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাসমালিক মিঠু মিয়া জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎস: প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ









