GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়

চীনে বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, এই অংশীদারিত্ব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি আয়োজন করে চীনের চিয়াংশি প্রাদেশিক সরকার।

সম্মেলনে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ঝেং পেংউ এতে স্বাক্ষর করেন।

মাহদী আমিন বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তবে সহযোগিতা শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তারা। এর সুফল তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে নতুন সুযোগে রূপান্তর করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সমঝোতা স্মারকটি কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কার্যক্রম ও ফলাফলে পরিণত করতে হবে।

এমওইউর আওতায় দুই দেশের মধ্যে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ তৈরি এবং শিক্ষা সম্পদ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষা-শিল্প সংযোগ এবং বাংলাদেশে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়েও সহযোগিতা করা হবে।

এছাড়া চীন সফর, বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও কাজ করবে দুই পক্ষ। ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে তিনটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও ফ্যান হংহুই।

চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মাহদী আমিন ও প্রফেসর পেই হংওয়েই। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মো. দাউদ মিয়া ও প্রফেসর ঝেং পেংউ।

উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তি, রোবোটিক্স ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। তরুণরা যেন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য না পড়ে, বরং ক্যারিয়ার, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

তার মতে, যৌথ স্কলারশিপ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং অনুষদ বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কাজের সুযোগও বাড়বে।

বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সুবিধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

চীনা সরকারের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি সহযোগিতাকে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আধুনিক ও শিল্প-সংযুক্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বড় একটি কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতার সুযোগ দেওয়া গেলে এই তরুণরা দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শিল্প এবং শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এজন্য পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক শিক্ষায় বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই শিক্ষার্থীরা যাতে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিক বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tagged:

Social Icons