
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) ৬৮ বিধিতে নোটিশ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ব্যাংকটিকে কেন্দ্র করে আবারও একটি দখলকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তার আশঙ্কা রয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং সে সময় খেলাপি ঋণের হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।
তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ২০২৪ সাল নাগাদ মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং খেলাপি ঋণের হার বেড়ে প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছায়, ফলে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো লভ্যাংশ পাননি।
বিরোধী দলীয় নেতা দাবি করেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং মুনাফাও ১০৮ কোটি থেকে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। লিখিত নোটিশে তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটিকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করে দখলের চেষ্টা চলছে।
তিনি দাবি করেন, অতীতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে মাত্র একদিনেই প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমানত উত্তোলন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শফিকুর রহমান তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় যেকোনো ধরনের অন্যায় ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং ৬৮ বিধি অনুযায়ী এ বিষয়টি সংসদে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় আনতে হবে।
স্পিকারের নির্ধারিত সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি নোটিশের পুরো অংশ উপস্থাপন করতে পারেননি। তবে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে তার বক্তব্য সংসদে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।






