প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুন ২০২৬, রাত ৮:০০ (বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা)
মূল ঘটনা
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোটপর্দার অভিনেতা যাহের আলভী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বললেও ইকরার পরিবার ও বন্ধুদের দাবি—এর পেছনের মূল কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মৃত্যুর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ইকরার কথোপকথন
ইকরার দীর্ঘদিনের দুই বন্ধু সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিনের কাছ থেকে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে:
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বন্ধুরা জানান, ইকরা আত্মহত্যার মতো মানুষ ছিলেন না। তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন এবং স্বামী যাহের আলভীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স) নেওয়ার কথা ভাবছিলেন।
- নতুন ব্যবসা ও সন্তান: ইকরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করার পাশাপাশি তাঁর ছেলে ‘রিজিক’-এর ভবিষ্যৎ ও তাকে কীভাবে বড় করবেন, তা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
- নেপালে যাওয়ার বার্তা: ঘটনার দিন সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে বন্ধুদের একটি ফেসবুক গ্রুপে ইকরা নেপালে চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বন্ধুরা তখন ভেবেছিলেন এটি হয়তো সাময়িক অভিমান। কারণ, ওই দিন সন্ধ্যায় বন্ধুদের ইকরার বাসায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। কিন্তু ওই বার্তার পর ইকরা আর কোনো সাড়া দেননি এবং দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
মামলার অভিযোগ ও পারিবারিক কলহ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, মানসিক নির্যাতন এবং স্বামীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ইকরা তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে আলভীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানার পর থেকে তাঁদের দাম্পত্য কলহ আরও চরম আকার ধারণ করে। বন্ধুদের প্রশ্ন—মৃত্যুর ঠিক আগে ফোনে আলভী এমন কী বলেছিলেন যা ইকরা সহ্য করতে পারেননি?
ইকরার মৃত্যুর পর অভিনেতা যাহের আলভী প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট ও লাইভ করলেও, পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া বেশ কিছু পোস্ট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।






