বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মীর ১৫ আগস্ট রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তিন দিনের এই রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্তকারী সংস্থা উদ্যোগ নিতে পারছে।
আদালতের নির্দেশ, তিন দিনের রিমান্ড

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ১৫ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই সময়ের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বৃহৎ গ্রেফতারের পর ১৫ জনকে রিমান্ড
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি: নাশকতা ও সন্ত্রাসের পরিকল্পনা
পুলিশের বক্তব্য, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ওই স্থানে জড়ো হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযানের সময় পুলিশ দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করেছে। জব্দ করা ব্যানারগুলোতে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। কয়েকটিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবিও ছিল বলে বলা হয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ প্রভাব ফেলবে মামলার গতিতে
রিমান্ড চলাকালে তদন্তকারী সংস্থা আসামিদের বক্তব্য যাচাই করে মামলার তথ্য-উপাত্ত সাজাতে চেষ্টা করবে। প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি—সব কিছুর ওপর এই ধরনের মামলার কার্যক্রম সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কারা রিমান্ডে রয়েছেন
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান ও শাহিন হোসেন ইমন।
প্রশ্নোত্তর
রিমান্ড কয় দিনের?
আদালত ১৫ জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
কোথায় অভিযান চালানো হয়?
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলা হয়েছে কেন?
মামলার সুষ্ঠু তদন্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ দরকার—এমন বক্তব্য তদন্তকারীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









