প্রবাসীদের অ্যাপোস্টিল করা সরকারি নথি আবারও পাল্টা সত্যায়নের ঝামেলায় পড়তে হয়—এমন বাস্তবতায় সব বিদেশি বাংলাদেশ মিশনে অভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না।
কেন এই রুল—অ্যাপোস্টিলের পরও আবার সত্যায়ন

রিটে বলা হয়েছে, হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী উৎসরাষ্ট্রে যথাযথভাবে অ্যাপোস্টিল করা পাবলিক ডকুমেন্ট নিলে সাধারণত অতিরিক্ত সত্যায়ন লাগে না। কিন্তু নির্দেশনার অভাবে দেশে থাকা একেকটি মিশন নথি গ্রহণে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। ফলে এক মিশনে অ্যাপোস্টিল করা নথি গ্রহণ হলেও অন্য মিশনে একই ধরনের নথির জন্য অতিরিক্ত বৈধকরণ বা পাল্টা প্রত্যয়নের শর্ত বসে।
কাদের ভোগান্তি—শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীরা
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জন্মসনদ, বিবাহসনদ, শিক্ষাগত সনদ, আদালতের নথি, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এবং অন্যান্য সরকারি দলিল বাংলাদেশে ব্যবহার করার প্রয়োজনের মুখে পড়ে। উৎসরাষ্ট্রে নোটারাইজড ও অ্যাপোস্টিল করার পরও অনেক ক্ষেত্রে আবারও বাংলাদেশ মিশন থেকে সত্যায়ন বা পাল্টা সত্যায়ন নিতে হয়। এতে এক নথির পেছনে একজনকে একাধিক সরকারি দপ্তর, নোটারি, অ্যাপোস্টিল কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ মিশনে যেতে হয়।
ব্যয়-সময়-ঝুঁকি—দূরত্ব ও কুরিয়ারের ঝামেলা
কিছু দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাসস্থান থেকে বহু দূরে হওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ে। তার সঙ্গে যোগ হয় অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা, কর্মস্থল থেকে ছুটি, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় এবং মূল নথি কুরিয়ারযোগে পাঠানোর ঝুঁকি। প্রবাসীদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি এই ঝামেলা অর্থ ও সময়—দুই দিকেই চাপ তৈরি করে।
আদালত কী নির্দেশনা চেয়েছেন
রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটে অভিন্ন নির্বাহী নির্দেশনা ও প্রশাসনিক গাইডলাইন জারি ও বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের সার্কুলার ও ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বরের এসআরও—বিদেশের সব মিশনে বাস্তবায়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য প্রভাব কী হতে পারে
অভিন্ন নির্দেশনা হলে একই ধরনের অ্যাপোস্টিল করা নথির জন্য দেশে ফেরার আগে বিভিন্ন মিশনে গিয়ে বারবার শর্ত মেলাতে হবে কমে যাবে। এতে খরচ, সময় ও ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়—যা চাকরি, পড়াশোনা বা পারিবারিক নথির কাজ দ্রুত করতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য সরাসরি উপকারি।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
এই রুলের মূল উদ্দেশ্য কী? অ্যাপোস্টিল করা সরকারি নথি গ্রহণে সব বিদেশি বাংলাদেশ মিশনে একই ধরনের নির্দেশনা ও পদ্ধতি নিশ্চিত করা।
রিটে কী সমস্যা দেখানো হয়েছে? নির্দেশনার ভিন্নতায় এক মিশন নথি নিলেও অন্য মিশন অতিরিক্ত সত্যায়ন চাইতে পারে।
এতে প্রবাসীরা কী লাভ পেতে পারেন? নথি ঘুরিয়ে বারবার বৈধকরণের ঝামেলা কমতে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









