GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / চাঁদপুরে প্রধান শিক্ষক সংকট, ৬৪২ স্কুল ঝুঁকিতে

চাঁদপুরে প্রধান শিক্ষক সংকট, ৬৪২ স্কুল ঝুঁকিতে

চাঁদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের দৃশ্য

চাঁদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকার চাপ এখন সরাসরি পড়াশোনায় আঘাত করছে। জেলার ৬৪২টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। এতে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

৬৪২ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য

চাঁদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের দৃশ্য

জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক সংকট রয়েছে। শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কাজ, অন্যদিকে অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়—এ সব সামলাতে গিয়ে একই শিক্ষকের ক্লাসও করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।

মতলব উত্তরে সংকট সবচেয়ে বেশি

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট চরাঞ্চল অধ্যুষিত মতলব উত্তর উপজেলায়। সেখানে ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। কেবল প্রধান শিক্ষক নয়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদও শূন্য। পাশাপাশি তিনটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় মাত্র দুইজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয় তদারকি, প্রশাসনিক কাজ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে পাঠদানে চাপ

প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ চালাতে হয় বাড়তি চাপে। একইভাবে বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের উপর কর্মঘণ্টা ও দায়িত্বের চাপ বাড়ে। অনেক সময় প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি ও মনোযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভব করছেন অভিভাবকেরা।

নিয়োগ ও পদ পূরণের আশায় অভিভাবকরা

অভিভাবক কামরুল হাসান বলছেন, রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও একই দাবি শোনা যায়। চরকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান আরিয়ান জানায়, তাদের স্কুলে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই; তারা স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সুযোগের কথা উঠে এসেছে।

তিন মাসে শূন্যপদ পূরণের আশা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে আশা করা হচ্ছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার শূন্য প্রধান শিক্ষক পদগুলো পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন-উত্তর

চাঁদপুরে কতগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই?
জেলায় ৬৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন?
শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

কবে সংকট কাটার সম্ভাবনা বলা হচ্ছে?
শিক্ষা অফিস সূত্রে আগামী তিন মাসের মধ্যে পদ পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons