GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শিক্ষা ও ক্যারিয়ার / শিক্ষা / কারিকুলামে সায়েন্স টয় ও ম্যাথ ল্যাব: মিডিয়া লিটারেসি

কারিকুলামে সায়েন্স টয় ও ম্যাথ ল্যাব: মিডিয়া লিটারেসি

শিশুদের জন্য সায়েন্স টয় ও ম্যাথ ল্যাব কার্যক্রম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট যাচাইয়ের ধারণা

শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিশুরা আজ অনেক সময় কাটায় ডিজিটাল মিডিয়ায়। তাই বই ও হাতে-কলমে শেখার পাশাপাশি কোন তথ্য বিশ্বাসযোগ্য—সেটি যাচাইয়ের দক্ষতাও গড়ে তোলা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নজরে আসে। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়—চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থী মৌলিক বাংলা পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ যুক্ত করার প্রস্তাব উঠে আসে।

শেখার দুই দরজা: বই আর হাতে-কলমে

শিশুদের জন্য সায়েন্স টয় ও ম্যাথ ল্যাব কার্যক্রম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট যাচাইয়ের ধারণা

বক্তব্যের ভেতর থেকে যে বার্তাটি স্পষ্ট, শিশুদের শেখার পথ কেবল তত্ত্বে সীমাবদ্ধ নয়। বই পড়ে শেখা যেমন দরকার, তেমনি হাতে-কলমে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শেখাও গুরুত্বপূর্ণ। এই যুক্তিতেই ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ ধরনের কার্যক্রমের দিকে দৃষ্টি যাচ্ছে।

ডিজিটাল মিডিয়া এখন শেখারই জায়গা

তবে আজকের বাস্তবতায় শেখা শুধু বই বা পরীক্ষাগারের মধ্যেই হচ্ছে না। শিশুেরা ইউটিউবের ভিডিও দেখে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নানা তথ্য পায়, সার্চ করে উত্তর খোঁজে, গেম খেলে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকেও প্রশ্নের উত্তর নেয়। ফলে ডিজিটাল মিডিয়া শিশুদের কাছে বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান আহরণের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে।

কনটেন্ট বিশ্বাসযোগ্য কি না—এটা শেখাতে হবে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষামূলক তথ্যের পাশাপাশি থাকে ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর ভিডিও, বিজ্ঞাপন কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো কনটেন্ট। তাই শিশুকে ‘কী দেখবে’—এর চেয়ে বেশি জরুরি ‘কীভাবে দেখবে’ সেটি শেখানো। তথ্যকে প্রশ্ন করা, উৎস যাচাই করা, তথ্য-ভিত্তিক মতামত ও বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক কনটেন্ট আলাদা করা—এসব দক্ষতাই এখানে আসল।

ছবি-ভিডিও আসল নাকি কৃত্রিম—প্রাথমিক ধারণা

আরও একটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে—যেকোনো ছবি বা ভিডিও আসল, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। বয়স অনুযায়ী এই পার্থক্য বোঝার মতো প্রাথমিক ধারণা তৈরি করা প্রয়োজন। এতে করে শিশু ভুল কনটেন্টে সহজে প্রভাবিত হবে না।

ইউনেসকোর মডেল থেকে ইঙ্গিত

ডিজিটাল যুগের জন্য ‘মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি সিটিজেন্স’ নামে একটি মডেল কারিকুলাম তৈরির কথাও এসেছে। সেখানে সমালোচনামূলকভাবে ভাবা এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ক্লিক করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের স্কুলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবাসী অভিভাবকদের কাছেও বিষয়টি সরাসরি প্রাসঙ্গিক—শিশুরা যে ডিভাইস, ভাষা ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, সেখান থেকে তারা তথ্যও নেয়, আবার ভুল ধারণাও গড়ে তুলতে পারে। তাই ‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ যতটা শেখাবে, ঠিক ততটাই দরকার হবে শিশুদের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি গড়ে তোলার উদ্যোগ।

সংক্ষেপে

বই ও হাতে-কলমে শেখার পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়ার তথ্য যাচাইয়ের শিক্ষা—এই সমন্বয়টাই এখন প্রাথমিক শিক্ষার আলোচনায় উঠে আসছে।

প্রশ্নোত্তর

মিডিয়া লিটারেসি কেন দরকার?
ডিজিটাল কনটেন্টে ভুল, বিভ্রান্তি ও বিজ্ঞাপন থাকতে পারে—সেগুলো আলাদা করে চিনতে শেখাতে।

‘সায়েন্স টয়’ ও ‘ম্যাথ ল্যাব’ যোগ হলে লাভ কী?
শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করতে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা বাড়াতে।

বাড়িতে অভিভাবক কীভাবে সাহায্য করতে পারেন?
দেখা কনটেন্ট নিয়ে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিলে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons