ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে ঢাবি সিসিটিভি বাগবিতণ্ডা—তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ নিতে গিয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথাকাটাকাটি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও জবাবদিহির প্রশ্ন সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারগুলোর আস্থার সঙ্গে জড়িত।
কক্ষের তালা খুলে ফুটেজ নেওয়ার চেষ্টা

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ নিতে এসে প্রক্টরিয়াল টিম হলের একটি তালাবদ্ধ কক্ষের তালা খুলে ফুটেজ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ফুটেজের একটি কপি চাইলেও প্রক্টরিয়াল টিম এতে রাজি হয়নি।
হলের ভিপি আবু নায়েম বলেন, এতে ফুটেজ মুছে ফেলা বা বিকৃত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের গেটে তালা মেরে রাখার পরও টিম এসে তালা কাটে এবং ফুটেজ নিজেদের কাছে নিতে চায়। তদন্তে সুবিধার্থে শিক্ষার্থীরা কপি চাইলেও তা না দেওয়ায় সন্দেহ বাড়ে বলেও অভিযোগ আসে।
প্রক্টরের ব্যাখ্যা: তদন্ত চলছে, কপি দেওয়ার বিষয় এখনই না
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ করছেন।
প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি তালা দিয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে সেটি খোলা হয়েছে। তবে তদন্তের সময় তথ্য বা ফুটেজ কপি করার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং কেন ফুটেজ নেওয়া হচ্ছে—তা জানতে চায়। তিনি আরও বলেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই না করে সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
ঘটনা ঘিরে তদন্ত কমিটি গঠন
জানা যায়, গত রোববার ফেসবুকে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেন রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন তিনি।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যেখানে প্রক্টরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
এবার প্রশ্ন ফুটেজের স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার
এই ঢাবি সিসিটিভি বাগবিতণ্ডাতে বড় যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো—তদন্তের স্বার্থে ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কপি দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। তদন্ত যত স্বচ্ছ হবে, ততই বাড়বে ক্যাম্পাস প্রশাসনের প্রতি আস্থা।
প্রশ্নোত্তর
তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ কেন নেওয়া হয়?
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই ও তদন্তের সুবিধার্থে ঘটনাস্থলের তথ্য সংগ্রহের জন্য।
শিক্ষার্থীরা ফুটেজের কপি চাইলে কী বলা হয়?
প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সবকিছু প্রকাশ বা কপি দেওয়ার বিষয় নির্ভর করে যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর।
ফুটেজ নেওয়ার কাজ কি শেষ হয়েছে?
প্রক্টর জানান, ভিডিও ফুটেজ কপি করার কাজটি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









