বাংলাদেশে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত—এই ইঙ্গিতই প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানির টানাপোড়েন কমলে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্বস্তি আসে।
ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিল ভারত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পারস্পারিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষৎমুখী সম্পর্ক চায়। একই ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিক জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথাও তিনি জানান।
অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ এসেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারত তার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতের আপডেট নেই
একই ব্রিফিংয়ে ভারত জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এই মুহূর্তে তাদের কাছে কোনো আপডেট নেই। তবে ভারত বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানানো হয়। নতুন কোনো তথ্য এলে তা জানানো হবে—এমন কথাও বলা হয়।
সফর হলে সম্পর্ক জোরদার হতে পারে—কূটনীতিকের মূল্যায়ন
ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনির মূল্যায়নে বলা হয়, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক জোরদারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি মনে করেন, সফর না হলে কিছু সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যেতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও দীর্ঘ সময়ের জন্য খোলা নাও থাকতে পারে।
যেসব ইস্যু সমাধানে উদ্যোগ দরকার
তার ভাষ্য অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে—যার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকা চাওয়া প্রসঙ্গও আসে। বিদ্যা ভূষণ সোনি মনে করেন, এই ধরনের ইস্যুতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলে ভারতের প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ আসতে পারে।
সব মিলিয়ে ভারত যে বার্তা দিল—জ্বালানি সহযোগিতা চলবে এবং অতিরিক্ত অনুরোধ যাচাই হবে—তা বাংলাদেশে জ্বালানি পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। আর সম্ভাব্য সফর আলোচনার গতি বাড়ালে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ নিয়ে ভারত কী বলেছে?
ভারত বলেছে, অনুরোধটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিজের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হবে।
স্বাভাবিক জ্বালানি সহযোগিতা কি চলবে?
ভারতের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাভাবিক জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আপডেট আছে কি?
এই মুহূর্তে ভারতের কাছে কোনো আপডেট নেই বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: JagoNews24.com









