প্রবাসী বাংলাদেশিদের টাকায় গড়া স্বপ্ন—শেয়ারবাজারে সেই আস্থা এবার চাপে পড়েছে। বুধবার শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত থাকায় ডিএসইতে লেনদেন তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, আর সূচকও পিছিয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেন কমে ৭০০ কোটির ঘরে
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। দরপতনের প্রভাবে কমেছে লেনদেনের গতি। দিন শেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন নেমেছে ৭০০ কোটি টাকার ঘরে। এতে ১৯ মে পর বা তিন মাসের মধ্যে ডিএসইতে সবচেয়ে কম লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে।
সূচকের পতন, টানা ছয় কার্যদিবস নেতিবাচক গতি
দিনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার ধারা দেখা যায়। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক অবস্থায় যায়। অল্প সময় পর বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও শেষ দিকে আবার দরপতনের চাপ বাড়ে। এতে মূল্যসূচক কমেই দিন শেষ করেছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ছয় কার্যদিবসের টানা পতনে সূচক কমেছে ১৩৩ পয়েন্ট।
ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবস্থান
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬১ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
দাম কমা-বাড়া—লভ্যাংশ-প্রত্যাশাও প্রভাব ফেলছে
দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে এবং ৬১টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ প্রসঙ্গেও বাজারের মনোভাব বোঝা যাচ্ছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির শেয়ার দাম বেড়েছে, আর ১০৮টির দাম কমেছে। ‘জেড’ গ্রুপে স্থান পাওয়া লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৪৭টির দাম কমেছে।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা কী?
যাদের দূর থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করতে হয়, তাদের জন্য এই দিনটি সতর্কতার। লেনদেন কমে গেলে তারল্য ও দামের ওঠানামা দুটোই বেশি অনুভূত হয়। দরপতন চলতে থাকলে নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার আগে অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন জরুরি।
প্রশ্নোত্তর
আজ ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন কোন কোম্পানির?
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি—মূল অবদান রেখেছে কোম্পানিটির লেনদেন।
টানা কয় কার্যদিবস ডিএসই সূচক কমল?
এ নিয়ে ছয় কার্যদিবসের টানা পতন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন লেনদেন কমে গেল?
দামের কমার তালিকা বড় হওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে লেনদেন কমেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









