বিদেশ থেকে ফিরে আসা কর্মীদের জন্য নতুন করে কর্মসংস্থান আর আত্মপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে—এ দাবিটাই আলোচনায় সামনে এসেছে। আর নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় ও জবাবদিহি জোরালো করার কথাও বলা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সমন্বয়

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি গোলটেবিল বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় জোর দেওয়া হয়, অভিবাসনপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রতারণা বন্ধে কার্যকর জবাবদিহির বিকল্প নেই।
বিদেশফেরতদের পুনর্বাসন: উদ্যোক্তা গড়ার সুযোগ
বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণকে কেন্দ্র করে বলা হয়, শুধু কর্মী ফেরানো নয়—ফিরে এসে যেন তারা নতুনভাবে দাঁড়াতে পারেন। সে লক্ষ্যে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। এতে প্রবাসীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পুঁজি কাজে লাগানোর বাস্তব পথ তৈরি হতে পারে।
প্রবাসী প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করতে উদ্যোগ
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বৈধতা এবং বিদেশে কর্মীর চাহিদাসহ তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়। লক্ষ্য—অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ কমিয়ে আনা।
অবৈধ পথ ঠেকাতে সমাজের সব স্তরের অংশ
অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও মত দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন স্তরকে যুক্ত করার কথা বলা হয়। অবৈধ পথে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও এসেছে।
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ পরিকল্পনা
আলোচনায় ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর সরকারি পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। মন্ত্রী জানান, সরকারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্ড চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত করার পথে আছে। প্রবাসীদের পরিচিতি ও সেবা সহজ করতে এমন উদ্যোগের বাস্তব উপকার থাকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসী বাংলাভাষীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফিরে এসে চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ তৈরি হলে পারিবারিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতি—দুয়োটাই জোরালো হয়। আবার নিরাপদ অভিবাসন মানে প্রতারণা ও অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ারও সম্ভাবনা।
প্রশ্নোত্তর
বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে ঠিক কী ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে?
তাঁদের পুনঃএকত্রীকরণে সমন্বিত উদ্যোগ, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ বাড়ানো এবং জবাবদিহিসহ নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর লক্ষ্য কী?
রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই এবং বিদেশে কর্মীর চাহিদাসহ তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য।
‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হলে উপকার কী হতে পারে?
প্রবাসীদের সেবা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা সহজ করতে এটি সহায়ক হবে বলে আলোচনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









