হাম প্রতিরোধে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর বসিয়ে লাভ নেই—সময়মতো কার্যকর টিকাদানই একমাত্র পথ বলে জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। শিশুদের জীবন বাঁচাতে মাঠপর্যায়ের নজরদারি ও টিকাদান কর্মসূচির গতি শতভাগ বাড়ানোর কথাও উচ্চারণ করেন তিনি।
আইসিইউ নয়, টিকাদানেই ঠেকবে হাম

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিকাদান ক্যাম্পেইনে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। আজকের মহামারিটাই সেটার ফল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড দিয়ে এই মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ ও টিকাদানই সমাধান—এ দাবিকে তিনি স্পষ্টভাবে সামনে আনেন।
টিকাদান বাড়লেও লাগবে সময়
অবাস্তব আশ্বাসের সুযোগ নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তবে এই সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমাতে জোর প্রচেষ্টা চলবে।
শিশু হাসপাতাল বিস্তারে পরিকল্পনা
শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।
এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসা-ব্যবস্থা জোরদার করতে দেশের সব পঞ্চাশ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একশ’ পঞ্চাশ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্য, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি—এই চারটি মূল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।
জনবল ঘাটতি কাটাতে নিয়োগের উদ্যোগ
সংকট কাটাতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের কথাও আসে বক্তৃতায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মা-শিশু স্বাস্থ্যকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, শিগগির পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজও এগোবে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের অনুপাতকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গবেষণার ফল প্রকাশ, গুরুত্ব পায় নজরদারি
‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, হাসপাতালটির পরিচালক এবং আইসিডিডিআর,বি-এর পরিচালকেরাও বক্তব্য দেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই খবরের অর্থ খুব বাস্তব—পরিবারে ছোট শিশু থাকলে টিকাদান নিশ্চিত করা, সময় মেনে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং সতর্ক নজরদারি রাখা প্রাত্যহিক নিরাপত্তার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাই মূল হাতিয়ার—এ বার্তাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নোত্তর
হাম প্রতিরোধে মূল সমাধান কী?
সময়মতো কার্যকর টিকাদানকেই একমাত্র সমাধান বলেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
টিকাদান বাড়ালেও পুরো নিয়ন্ত্রণ আসতে কত সময় লাগতে পারে?
তিনি বলেন, আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।
শিশু হাসপাতাল নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে?
বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ এবং উপজেলা পর্যায়ে শিশু স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









