GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদীয় দলের বৈঠক ও ভোট আহ্বানের পরিবেশ

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সংসদীয় দলে আবেগ-ভরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কেঁদেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর সেখানেই দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে সরাসরি ভোটের আহ্বান পৌঁছে গেছে।

সংসদীয় দলের বৈঠকে ভোট চাওয়ার বার্তা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদীয় দলের বৈঠক ও ভোট আহ্বানের পরিবেশ

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে। বৈঠকে দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তারেক রহমান।

এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি না হয়—এ বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

মনি দেন প্রক্রিয়ার ধারণা, কাল ভোট

সভায় বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চাইতে বলেন। সংসদ সদস্যদের জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় জানানো হয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিদায়ী বক্তব্যে কান্নাজড়িত ফখরুল

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্যবিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র বলছে, বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে বারবার কেঁদেছেন তিনি, ফলে সভাকক্ষে গভীর আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথাও তুলে ধরেন ফখরুল। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে বা অজান্তে কারও মনে আঘাত লেগে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী হন তিনি।

তিনি বলেন, দল যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তা রক্ষা করবেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলেও জানান। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে।

তারেক রহমানও আবেগে ভেজা বক্তব্য

ফখরুলের বক্তব্য ঘিরে আবেগ বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বৃহস্পতিবারের পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আর দেখা যাবে না—এ বিষয়টিও তার বিদায়ী বক্তব্যকে আরও আবেগঘন করে। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন।’ এরপর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

প্রবাসী পাঠকের জন্য অর্থ কী

প্রবাসীদের মতো যারা দূর থেকে দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি দেখেন, তাদের জন্য এই ভোটের আহ্বান সরাসরি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। দলীয় সিদ্ধান্তে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তাও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের ছন্দ ঠিক রাখতে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংক্ষেপে জেনে নিন

ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী চেয়েছেন? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন সভাকক্ষে আবেগ তৈরি হয়? বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বৈঠকের প্রধান বার্তা কী? দলীয় ঐক্য অটুট রেখে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব না তৈরি করার তাগিদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons