ইউরোপে পড়তে চাইলে আপনার পরের ধাপটা হতে পারে স্লোভাকিয়া স্কলারশিপস। স্লোভাকিয়া সরকার দিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অংকের আর্থিক সহায়তা—সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত।
কাদের জন্য সুযোগ

‘স্লোভাকিয়া স্কলারশিপস ফর ট্যালেন্টেড স্টুডেন্টস ২০২৬–২৭’ শিরোনামের এই বৃত্তির আওতায় স্নাতক, সমন্বিত স্নাতক-মাস্টার্স এবং মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ার সুযোগ মিলবে। বৃত্তি দেওয়া হবে স্নাতক ও সমন্বিত স্নাতক-মাস্টার্স পর্যায়ে এবং আলাদা করে মাস্টার্স পর্যায়েও।
আর্থিক সহায়তার কাঠামো
এই বৃত্তির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত পাবেন। আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে মাসে ৫০০ ইউরো করে—বছরে ১০ মাস, সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত। কত বছর বৃত্তি চলবে তা নির্ভর করছে প্রোগ্রামের ধরন অনুযায়ী: স্নাতক বা সমন্বিত স্নাতক-মাস্টার্সে সর্বোচ্চ তিন শিক্ষাবর্ষ, আর মাস্টার্সে সর্বোচ্চ দুই শিক্ষাবর্ষ।
যোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
স্লোভাকিয়া ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন। তবে স্নাতক পর্যায়ে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে স্লোভাকিয়ার কোনো মাধ্যমিক স্কুলে আগের পড়াশোনা করা যাবে না। একইভাবে, স্লোভাক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করা থাকলে সাধারণভাবে যোগ্যতা নাও মিলতে পারে—তবে একাডেমিক মোবিলিটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আছে। মাস্টার্স পর্যায়ে আগের উচ্চশিক্ষার বিষয়টি বাধা হবে না।
বাছাইয়ের বড় ভিত্তি মানসম্মত পরীক্ষার ফলাফল। এসএটি পরীক্ষায় ন্যূনতম ১১০০ স্কোর, অথবা এসসিআইও পরীক্ষায় গড়ে ৬৩ পার্সেন্টাইল অর্জন করতে হবে। আবেদন করার সময় এসএটি’র অফিসিয়াল স্কোর রিপোর্ট বা এসসিআইও ফল জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ইংরেজিতে কাঠামোবদ্ধ জীবনবৃত্তান্ত ও একটি মোটিভেশন লেটার লাগবে। বয়সসীমা নেই, তবে ১৮ বছরের কম হলে আইনগত অভিভাবকের স্বাক্ষরিত অনুমতি দরকার।
আবেদন প্রক্রিয়া ও খরচ
প্রথমে স্লোভাকিয়ার নির্বাচিত সরকারি বা রাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন স্নাতক, সমন্বিত স্নাতক-মাস্টার্স-মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে হবে। এরপর বৃত্তির নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি নেই—এটাই অনেকের জন্য স্বস্তির বিষয়। ভিসা ও অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রক্রিয়ায় সহায়তাও পাওয়া যাবে।
আবেদনের শেষ সময় ধরা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
প্রবাসী শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপে উচ্চশিক্ষার খরচ সামলাতে চান, তাদের জন্য এই বৃত্তি সরাসরি আর্থিক চাপ কমাতে পারে। মাসিক নিয়মিত সহায়তা থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি থাকার ব্যয় পরিকল্পনা করাও সহজ হয়—আর ভিসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা থাকায় প্রস্তুতিও দ্রুত এগোনো যায়।
দ্রুত প্রশ্নোত্তর
আবেদন ফি আছে কি?
না, এই বৃত্তির জন্য আবেদন ফি নেই।
ফল দিতে না পারলে কি হবে?
মানসম্মত পরীক্ষার ফল (এসএটি বা এসসিআইও) এবং নির্ধারিত স্কোর/পার্সেন্টাইল পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, ভিসা ও অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়ার সুযোগ আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









