মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে জুনে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করতে আর আগ্রহী নন। এর পরিবর্তে তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চাপ প্রয়োগ করতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) টাইমস অব ইসরাইলকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয় জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান আলোচনায় আরও ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা চলছে না। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিভিন্ন খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাত রয়েছে।
ইরানি তেল পরিবহনে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্য করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, জুনের সমঝোতা স্মারক পুনরায় কার্যকর করার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নেই। কাতার ও পাকিস্তান নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও ট্রাম্প তাদের জানিয়েছেন, আগের শর্তে তিনি আর ফিরতে চান না।
ট্রাম্পের অবস্থানের পেছনে ইরানের ওপর আস্থার সংকটও কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান একাধিকবার আলোচনার শেষ পর্যায়ে গিয়ে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
তবে এই কৌশল সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ সময় ধরে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের মতে, যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের বিরূপ অবস্থানের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে।
এদিকে সাবেক মোসাদ প্রধান ডেভিড বারনিয়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার পথে আরও একটি পদক্ষেপ।
বারনিয়া মনে করেন, শুধু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি গোপন অভিযানও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। এতে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।









