GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি, দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি, দুঃখ প্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।

হাসনাত জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো।

হাসনাতের দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন।

এতে দেশের বাইরে তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন হাসনাত।

তার দাবি, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল কিছুটা ভিন্ন।

হাসনাত বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল।

এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ঘটনাটিকে গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি।

তারা শুধু শব্দ কমানোর কথা বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার উদাহরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নৌকাবাইচ নিয়ে নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুল হয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি জানান, সিলেটের একটি ঘটনার জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন।

এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।

হাসনাত বলেন, সংসদে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত বলা উচিত ছিল।

তবে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় সীমিত থাকায় সে সুযোগ পাননি।

পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, তিনি এবং তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন। সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নীতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

হাসনাতের মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়।

সেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে। কেউ নিজের মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

মতের পার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে জোর করে কোনো মত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর জোর খাটালে তা প্রতিহত করা এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশকে সবার দেশ হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এখানে মসজিদ, মন্দির, মাজার, সঙ্গীত, ওয়াজ, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব সবই থাকবে।

একই সঙ্গে আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।

তার বক্তব্য, যে যার পছন্দের কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন।

কারও কোনো কিছু পছন্দ না হলে তিনি সেখানে যাবেন না।

তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

হাসনাত আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সবার।

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়াই ছিল সেই আন্দোলনের লক্ষ্য।

সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Tagged:

Social Icons