রান্না মানে শুধু চুলার আগুন আর শেষ প্লেটে খাবার—এভাবে ভাবতে ভালো লাগে না শেফ অভিরূপ কুমার সিংহকে। তাঁর কাছে খাবার আসলে গল্প, সংযোগ আর নান্দনিকতার সেতু।
রান্নাঘরের বাইরেও নান্দনিকতার ছাপ

অভিরূপের ভাবনা একদম সরল: রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে একটি খাবার তৈরি করা আর রন্ধনশিল্পীর পথচলা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়। একটি খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে উপকরণ, স্বাদ আর ঘ্রাণ—আর একজন রন্ধনশিল্পীর সঙ্গে মিশে থাকে মানুষ, স্মৃতি, শিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও শিকড়ের গল্প।
ইন্টেরিয়র ডিজাইন থেকে প্লেটিংয়ে আসা
পেশাগত জীবনের শুরুতে অভিরূপ ছিলেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। সিলেটে বিভিন্ন রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জার কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন—একটি পরিবেশ, আলো, সাজসজ্জা আর উপস্থাপনা কীভাবে মানুষের অভিজ্ঞতাকে বদলে দেয়। সেই চিন্তা থেকেই খাবারের উপস্থাপনা, ফুড স্টাইলিং আর প্লেটিংয়ে তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে তিনি আরও দেখেছেন, নকশা, রং আর বিন্যাস নিয়ে কাজ করতে করতে খাবারের প্লেটও হতে পারে সৃজনশীলতার ক্যানভাস। ফলে নান্দনিকতা তাঁর কাছে শুধু বাহ্যিক রূপ নয়।
চোখের শান্তি, তারপর মনের তৃপ্তি
অভিরূপের ভাষায়—খাবার আগে চোখের শান্তি। এরপর মনের তৃপ্তি। তবে প্লেট যত সুন্দরই হোক, স্বাদ যদি না থাকে, সেই সৌন্দর্য অসম্পূর্ণ। এই জায়গাতেই তিনি ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে মেলাতে চান।
সিলেটের স্বাদ, মণিপুরি সরলতা, ফুড কার্ভিংয়ের সৌন্দর্য
নিজের রন্ধনচর্চায় অভিরূপ তুলে ধরছেন সিলেটের স্থানীয় স্বাদ, মণিপুরি রান্নার সরলতা, ফুড কার্ভিংয়ের সৌন্দর্য আর আধুনিক প্লেটিংয়ের স্টাইল। এসব মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলছেন স্বতন্ত্র রন্ধনভাষা।
প্রশিক্ষক, বিচারক ও টিভির অভিজ্ঞতা
সিলেটের শিবগঞ্জে বেড়ে ওঠা এই রন্ধনশিল্পী আজ পরিচিত ফুড কার্ভিং ও প্লেটিং শিল্পী হিসেবে। তিনি প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতার বিচারকও। রান্নার পথে তাঁর বড় অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ রন্ধনশিল্পীরা। ২০০৭ সালে কেকা ফেরদৌসীর সঙ্গে প্রথম টেলিভিশন রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। এরপর টেলিভিশনের রান্নার অনুষ্ঠানে নিয়মিত কাজও শুরু করেন। পাশাপাশি রাহিমা সুলতানা রিতা থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আর নিজের শিক্ষাগুরু হিসেবে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সিদ্দিকা কবীরকে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য এই গল্পের সবচেয়ে বড় মূল্য হলো—বিদেশের টেবিলেও স্বাদ-আনন্দ ধরে রাখা যায় নান্দনিকতার জ্ঞান দিয়ে। পরিচয়ের স্বাদ, নতুনভাবে উপস্থাপন আর মনোযোগ—সব মিলিয়ে খাবার হয়ে ওঠে আরও আপন।
প্রশ্নোত্তর
অভিরূপ কুমার সিংহ কীভাবে রান্নার জগতে আসেন?
ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করতে করতে খাবারের পরিবেশ ও উপস্থাপনার প্রভাব বুঝে তিনি ফুড স্টাইলিং ও প্লেটিংয়ে আগ্রহী হন।
তাঁর কাছে নান্দনিকতার মানে কী?
চোখের শান্তি, তারপর মনের তৃপ্তি—আর স্বাদ না থাকলে সৌন্দর্য অসম্পূর্ণ।
তিনি কোন কোন ধারার স্বাদকে গুরুত্ব দেন?
সিলেটের স্থানীয় স্বাদ, মণিপুরি রান্নার সরলতা, ফুড কার্ভিং ও আধুনিক প্লেটিং—এসব মিলিয়ে তিনি নিজের ভাষা তৈরি করছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: haal.fashion









