GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নীতি চ্যালেঞ্জ

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নীতি চ্যালেঞ্জ

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা জোনভিত্তিক চলাচল ও জিও–ফেন্সিং পরিকল্পনার প্রতীকী চিত্র

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন খসড়া নীতিমালায় জিও–ফেন্সিং থেকে শুরু করে চালকের ফিটনেস সনদ ও সৌরবিদ্যুতে চার্জের শর্ত রাখা হয়েছে। নীতিটি টেকনিক্যালভাবে অগ্রসর হলেও নগরের বাস্তব অবকাঠামো আর দৈনন্দিন যাতায়াতের ধরন—এই দুইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে কঠিন পরীক্ষা থাকবে।

জোনভিত্তিক রিকশা, জিও–ফেন্সিং চালুর পরিকল্পনা

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা জোনভিত্তিক চলাচল ও জিও–ফেন্সিং পরিকল্পনার প্রতীকী চিত্র

স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকার পুরো এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন রঙের রিকশা নামানোর পরিকল্পনা করেছে। জিপিএস–ভিত্তিক ‘জিও–ফেন্সিং’ প্রযুক্তি দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথাও আছে। চালকদের জন্য ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, আর সৌরবিদ্যুতে চার্জ দেওয়ার কথাও নীতির অংশ।

ফিটনেস ও নিরাপত্তা যাচাই করবে বুয়েট-সহ কারিগরি টিম

বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) এবং সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর অভিজ্ঞ কারিগরি দল যৌথভাবে এসব বাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তার মান যাচাই করবে। বুয়েট ও পলিটেকনিকের অটোমোবাইল ও মেকানিক্যাল বিশেষজ্ঞরা বডি স্ট্রাকচার, এক্সেল লোড এবং ভারসাম্য সার্টিফায়েড করার দায়িত্বে থাকবে।

ব্রেকিং দুর্বলতার দিকে নজর—ঝুঁকি কমানোর যুক্তি

নীতিমালার প্রকৌশলগত নিরাপত্তা অংশে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত থ্রি–হুইলারগুলোর দুর্বল মেকানিক্যাল ব্রেকিং আর উচ্চগতি সংক্রান্ত ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে। বাঁক নেওয়ার সময় সেন্ট্রিফুগাল ফোর্সের প্রভাবে উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা কমাতে কাঠামোগত মান ঠিক রাখা হবে—এ লক্ষ্যই সার্টিফিকেশনের মূল ভিত্তি।

বাস্তবায়নে তিনটি বড় টেকনিক্যাল বটলনেক

নীতিটিকে কার্যকর করতে বড় বাধা হিসেবে তিনটি টেকনিক্যাল বিষয়কে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বহুতল ভবনের আধিক্যের কারণে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাঘাত হতে পারে। ফলে জিও–ফেন্সিং সব সময় নির্ভুলভাবে কাজ নাও করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, যাত্রীদের দৈনন্দিন গন্তব্য-ভিত্তিক (ও–ডি) যাত্রা অনেক সময় প্রশাসনিক জোনের সীমানা মানে না। ইন্টার জোনাল ট্রানজিটের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে যাত্রীদের সময় ও যাতায়াতের খরচ বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, সৌর চার্জিংয়ের বাস্তব দিকও জটিল। একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার নির্দিষ্ট ব্যাটারি প্যাক চার্জ দিতে ছোট সোলার প্যানেল দিয়ে বাস্তবে থার্মোডায়নামিক্যাল সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ এসেছে। কেন্দ্রীয় সৌর হাব না থাকলে গ্যারেজ মালিকদের ওপর আলাদা করে সোলার প্যানেল বসানোর শর্ত একা দিয়ে সমাধান টেকে না—এমন আশঙ্কাও আছে।

প্রবাসী পাঠকের জন্য বার্তা: দৈনন্দিন নিরাপত্তা আর যানজট—দুই লক্ষ্যই দোলাচলে

ঢাকার রাস্তায় চলাচল শুধু চালক-যাত্রীর বিষয় নয়; যানজট কমা মানে সময় বাঁচা, ঝুঁকি কমা মানে নিরাপত্তা বাড়া। প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছে রেমিট্যান্স নির্ভর জীবনের টানাপড়েনের মধ্যেও নগরের সেবা ব্যবস্থা সহজ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নীতিটি বাস্তবে কতটা মানসই হবে—সেই পরীক্ষাই এখন সামনে।

প্রশ্নোত্তর

জিও–ফেন্সিং কীভাবে কাজ করবে?
জিপিএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জোনের বাইরে চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হবে।

ফিটনেস সনদ কে দেবে?
বুয়েট এবং সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর কারিগরি টিম ফিটনেস ও নিরাপত্তার মান যাচাই করে দায়িত্ব নেবে।

সৌর চার্জিংয়ে কী সমস্যা হতে পারে?
কেন্দ্রীয় সৌর অবকাঠামো না থাকলে গ্যারেজভিত্তিক একক শর্তে চার্জিং কার্যকর না-ও হতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: nagorik.prothomalo.com

Social Icons