ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি মানে শুধু নতুন ক্যাম্পাস আর ডিগ্রির স্বপ্ন নয়; ঋণের বোঝা নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পাওয়ার বাস্তবতাও ক্রমেই সামনে আসছে। উত্তর ভারতের এক শিক্ষা কেন্দ্রে ডিগ্রির বদলে অনেকের ভাগ্যে জুটছে একরাশ হতাশা।
নলেজ পার্কে পড়তে আসা শিক্ষার্থীর চাপ

‘নলেজ পার্ক’ বলতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এমন অঞ্চলকে বোঝায়—যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্ট-আপগুলো কাছাকাছি থাকে। গ্রেটার নয়ডা এলাকার ‘নলেজ পার্ক থ্রি’ সেই ধারণার বড় অংশ।
ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিশ্রুতি ছিল—কলেজের ডিগ্রি তরুণদের মধ্যবিত্ত জীবনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু নয়াদিল্লির কেন্দ্র থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে গড়ে ওঠা বেসরকারি কলেজ-ভার্সিটিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন পথে যাচ্ছে।
ডিগ্রির সঙ্গে বাড়ছে ঋণ ও হতাশা
এই এলাকায় গত এক দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও, ভালো বেতনের চাকরি তৈরি হচ্ছে তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সন্তানদের পড়াতে পরিবারগুলো সঞ্চয় শেষ করে ফেলছে। শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার সংখ্যা বাড়ছে—কিন্তু চাকরির গতি মিলছে না।
উদাহরণ: ঋণের হিসাব মাথায় নিয়ে পড়াশোনা
বারানসি শহরের এক শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয় পড়ছেন। তাঁর ডিগ্রির খরচ নির্ধারিত থাকলেও বড় অংশ জোগাড় হয়েছে ব্যাংকঋণ থেকে। লক্ষ্য চাকরি পেয়ে দ্রুত আয় শুরু করা। কিন্তু সেই চাকরি নিশ্চিত না হওয়ায় ঋণের ওপর সুদ যোগ হওয়ার চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি জানান, সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা কীভাবে হবে—এটাই প্রধান চাপ।
বিক্ষোভের আগুন কিছুটা থেমেছে, ক্ষোভ রয়ে গেছে
ভারতের তরুণদের এই উদ্বেগ থেকেই সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ গড়ে ওঠে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা ভালো জীবনের পথে বাধা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং তরুণদের অসহায়ত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়। বিক্ষোভের ঢেউ এখন কমলেও হতাশা পুরোপুরি কাটেনি।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা কী?
বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারের অনেকেই বিদেশে বা বিদেশ-সংযুক্ত পথে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করেন। এই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—শুধু পড়াশোনার খরচ নয়, চাকরির বাজার, দক্ষতার চাহিদা এবং বাস্তব আয়ের সম্ভাবনা একসঙ্গে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা জরুরি। ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তার ঝুঁকি যেন ভবিষ্যৎকে ভারী না করে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ার পরও চাকরি সংকট কেন?
উত্তর: লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করার হার বাড়লেও ভালো বেতনের চাকরি তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে কম।
প্রশ্ন: শিক্ষার্থীদের ওপর ঋণের চাপ কীভাবে বাড়ছে?
উত্তর: অনেক পরিবার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে ব্যাংকঋণে ভর করছে; স্নাতকের পর চাকরি নিশ্চিত না হলে সুদ ও পরিশোধের চাপ তৈরি হয়।
প্রশ্ন: আন্দোলন কী নিয়ে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা তরুণদের জীবনের নানা বাধা নিয়ে অসন্তোষে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









