নওগাঁয় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ধাক্কায় চালকলগুলোর উৎপাদনের পাশাপাশি চালের মান নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনিয়মিত বিদ্যুতে বিশেষ করে ধান শুকানোর প্রক্রিয়া বারবার থামলে পণ্যের রং, গুণগত মান ও ভাঙার হার প্রভাবিত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড্রায়িংয়ে থামছে পুরো উৎপাদন

চালকল মালিকদের তথ্যমতে, জেলায় ছোট-বড় প্রায় সাড়ে তিনশ চালকল সচল থাকলেও অটোমেটিক রাইস মিল রয়েছে ৫২টি। এসব মিলে জিরাশাইল, সম্পা কাটারী, স্বর্ণা-৫, সুগন্ধিসহ নানা জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তবে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো ঠিকঠাক চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চালকল মালিকেরা বলছেন, ধান শুকানোর (ড্রায়িং) ধাপে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও সময় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে ড্রায়ার বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ এলে আবার পুরো প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগে। এতে ধানের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চালের মানও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়।
মিল বন্ধ রেখে শ্রমিকদেরও খরচ
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় মিল বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয়। তাতে উৎপাদন খরচও বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ এলেও স্বাভাবিকভাবে চালু হতে সময় লাগে বলে দিনের বড় একটা সময় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত থাকে। ফলে জেলার উৎপাদন কমে আসার আশঙ্কাও জানিয়েছেন চালকল সংশ্লিষ্টরা।
যন্ত্রপাতির ওপর বাড়তি চাপ
অটোমেটিক মিলগুলোতে একসঙ্গে অনেক মোটর ও যন্ত্রপাতি চালাতে হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে জানিয়েছেন চালকল সংশ্লিষ্টরা। কয়েকদিন ধরে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তা ফিরলেও উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক করতে সময় লাগে। এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়তে পারে যন্ত্রের কর্মক্ষমতাতেও।
উৎপাদন কমলে মোকামে পড়বে প্রভাব
শহরের আড়তদারপট্টির পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুকুমার ব্রম্ম বলছেন, এখন বাজারে পর্যাপ্ত চাল থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে। তবে উৎপাদন কমতে থাকলে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পরে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন মোকামেও ধীরে ধীরে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
রপ্তানিতেও আস্থা হারানোর ঝুঁকি
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, নওগাঁর চালের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের নানা মোকামের পাশাপাশি বিদেশেও চাহিদা আছে। সুগন্ধি চালের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয়। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে চালের মানও খারাপ হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মান খারাপ হলে ক্রেতার আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে; তখন দেশি বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারও হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রবাসী ক্রেতাদের জন্য বার্তা
নওগাঁর চালের বড় একটা অংশ দেশের বাইরে পৌঁছায়। বিদ্যুতের অনিয়ম চলতে থাকলে উৎপাদন ও মান—দুই ক্ষেত্রেই ঝুঁকি বাড়বে। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের টেবিল পর্যন্ত টেকসই সরবরাহ ও মান ধরে রাখতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রশ্নোত্তর
লোডশেডিং চালকলের কোন ধাপে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে?
ধান শুকানোর (ড্রায়িং) ধাপে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও সময় বজায় রাখতে না পারায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে।
এতে চালের মান কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো না হওয়ায় চালের রং, গুণগত মান ও ভাঙার হার নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
উৎপাদন কমলে বাজারে কী হতে পারে?
চাহিদা হঠাৎ বাড়লে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পরে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









