GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / সার আমদানিতে ৫৬৪ কোটি টাকার অনুমোদন

সার আমদানিতে ৫৬৪ কোটি টাকার অনুমোদন

কৃষি জমিতে ব্যবহারের উপযোগী সার আমদানির বিষয়ক একটি প্রতীকী চিত্র

প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ সার কেনা নিশ্চিত মানে কৃষকের উৎপাদন খরচে স্থিতি আনা এবং বাজারে ফলন ধরে রাখার চেষ্টা। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ৫৬৪ কোটিরও বেশি টাকা।

কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ

কৃষি জমিতে ব্যবহারের উপযোগী সার আমদানির বিষয়ক একটি প্রতীকী চিত্র

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানি করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৭ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪০ টাকা। এই অর্থ কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টনে দাম পড়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। পুরো লটের মোট মূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার।

রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ

এদিকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ লটে জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে এই সার আনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৭ টাকা, যা কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে দেওয়া হবে।

একই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতি মেট্রিক টনে দাম ধরা হয়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। মোট ৩৫ হাজার মেট্রিক টনের মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০ মার্কিন ডলার। রাশিয়া থেকে মোট লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন; এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আমদানি সম্পন্ন হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে এই সার আমদানি করা হবে।

২০০৭ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সাবিক থেকে ইউরিয়া আমদানি করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ৫ লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। দ্বিতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে তিন দেশে থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির পথ খুলল। কৃষিখাতে এই সরবরাহ স্থির থাকলে সঠিক সময়ে সার পাওয়া এবং উৎপাদন পরিকল্পনা—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে। প্রবাসী পরিবারের আয়ের সঙ্গে কৃষি-নির্ভর অর্থনীতি যুক্ত থাকায় বিষয়টি আপনার দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গেও সম্পর্ক রাখে।

প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি

সার আমদানি ও সরবরাহ নিশ্চিত হলে ফসল উৎপাদন ধারাবাহিক থাকে। ফলে দেশের বাজারে খাদ্য ও কৃষিজ পণ্যের স্থিতি আসে—যা রেমিট্যান্স নির্ভর অনেক পরিবারের বাজেটেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

দ্রুত প্রশ্নোত্তর

কত টন সার আমদানির অনুমোদন হয়েছে?
মোট ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

তিনটি দেশের মধ্যে কোনগুলো আছে?
কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব।

মোট ব্যয় কত টাকার?
৫৬৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে এই সার আমদানি হবে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons