আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে এগোনো জরুরি—তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল সাফল্য মাপা উচিত শিক্ষার্থীর অর্জন ও সক্ষমতায়। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ কথাই তুলে ধরলেন, যেন উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারে।
র্যাংকিং নয়, শিক্ষার্থীর অর্জনই মুখ্য

ঢাকার শেরাটন হোটেলে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম-২০২৬’-এ সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, র্যাংকিংয়ে উন্নতি একটি লক্ষ্য হতে পারে। কিন্তু সেটাই একমাত্র মানদণ্ড নয়। শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার সক্ষমতা, এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
গুণগত শিক্ষা ও গবেষণায় জোর ইউজিসির উদ্যোগ
তিনি জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের লক্ষ্যে ইউজিসি পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই পরিকল্পনায় রয়েছে গবেষণার মানোন্নয়ন, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিকীকরণ। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়তেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি
ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা করা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। তারপর সেই জ্ঞান যেন সমাজ ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে বাস্তবে কাজে লাগে—এটাই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন।
বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব মানদণ্ডের কথা
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের সূচক নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর একটি মানদণ্ড তৈরি করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা, সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার মান, গবেষণা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থানযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার সমন্বিত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
সব শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগ-মানের বৈষম্য কমানো
উচ্চশিক্ষায় সুযোগ ও মানের বৈষম্য কমানোর ওপরও জোর দেন তিনি। অবকাঠামো, শিক্ষক, গবেষণা, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং শিক্ষা-সুবিধায় যে পার্থক্য রয়েছে, তা কমিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
চাকরির বাজারের সঙ্গে শিক্ষাক্রমের মিল
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করেন—র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান করলেই শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষাক্রমকে শিল্পখাত ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হবে। একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা এবং পরিবর্তিত কর্মপরিবেশে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা তৈরির সুযোগ দিতে হবে।
প্রবাসী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? আপনি যদি বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির পথে থাকেন, তাহলে ‘কাগুজে’ র্যাংকিংয়ের চেয়ে দক্ষতা ও কর্মদক্ষতাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের সেই উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারলেই ভবিষ্যৎ পথটা পরিষ্কার হয়।
সংক্ষেপে প্রশ্ন-উত্তর
র্যাংকিং কি একেবারে গুরুত্বহীন?
না। র্যাংকিং উন্নতি লক্ষ্য হতে পারে, কিন্তু একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ কী?
গবেষণা করা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং সেই জ্ঞান সমাজ-অর্থনীতিতে কাজে লাগানো।
শিক্ষার্থীদের কোন সক্ষমতা তৈরির কথা বলা হয়েছে?
যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা দক্ষতা ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









