আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর পথ খুলছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ

ইউজিসির লক্ষ্য—ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে মিলিয়ে দেওয়া। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিখলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির ভিত্তি হবে।
প্রাথমিকভাবে কোন কোন ভাষা
প্রাথমিক পর্যায়ে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়—মোট আটটি ভাষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। সভায় আলোচনায় অগ্রাধিকার হিসেবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষার বিষয়টিও এসেছে।
৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়, কীভাবে বাছাই
ইউজিসি বলছে, নতুন করে ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয় মানুষের আগ্রহ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে।
এ জন্য বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যসহ বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি—তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর চাহিদাভিত্তিক ভাষা নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের ম্যাপিং করা হবে।
শিক্ষার মান নিশ্চিত ও শিক্ষার্থী সুরক্ষা
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে দক্ষ প্রশিক্ষক গড়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষক দল গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাও নেওয়া হবে।
ইউজিসি কেন্দ্রগুলোর মান নিশ্চিত করা ও তদারকিতে ভূমিকা রাখবে। আধুনিক ভাষা ল্যাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করার কথাও এসেছে। আর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন সাশ্রয়ী ব্যয়ে ভাষা শিখতে পারে—সেদিকেও নজর থাকবে।
বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন উদ্যোগে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, কোর্স, প্রশিক্ষক, জনবল ও অবকাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউজিসির লক্ষ্য, ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য মানে কী
যারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশের কাজের বাজারকে সামনে রেখে পড়ালেখা ভাবছেন, তাদের জন্য ভাষা দক্ষতা বাড়ানো হবে বড় সহায়তা। তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা থাকলে চাকরির আবেদন, ইন্টারভিউ এবং কর্মস্থলে যোগাযোগ—সব জায়গায় এগিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশ্নোত্তর
কোন উদ্দেশ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র করা হচ্ছে?
আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মিলিয়ে দিতে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে।
প্রাথমিকভাবে কোন কোন ভাষা অগ্রাধিকার পাবে?
অগ্রাধিকারের আলোচনায় আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় এসেছে। পাশাপাশি মোট আটটি ভাষা কার্যক্রমে আনার পরিকল্পনা আছে।
বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কি যুক্ত থাকবে?
হবে। নতুন কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









