GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ইসলামের আদর্শিক রাজনীতিতে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব

ইসলামের আদর্শিক রাজনীতিতে ছাত্রসমাজের দায়িত্ব

বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা

ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা আর নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব ছাত্রসমাজের কাঁধে—এই আহ্বান জানালেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সভায় বক্তারা। বক্তৃতায় তারা আত্মশুদ্ধির কথা জোর দিয়ে বলেন, একই সঙ্গে ক্যাম্পাসকে মাদক, সন্ত্রাস আর অনৈতিক সংস্কৃতি থেকে মুক্ত রাখার ভূমিকার কথাও উঠে আসে।

ছাত্ররাই করবে ইসলামের রাজনীতি

বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের রাজনীতি তোমরাই করবে। এজন্য নিজেদেরকে আদর্শ, নৈতিকতা, তাকওয়া ও যোগ্যতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাহাবাদের আদর্শে সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠা

বক্তারা সাহাবায়ে কেরামের আদর্শিক জীবন অনুসরণের কথা বলেন। তাদের লক্ষ্য হবে সমাজের সর্বস্তরে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা। একই ধারায় ব্যক্তি বদলানোর মধ্য দিয়ে সমাজ-রাষ্ট্রের পরিবর্তনের কথাও উচ্চারিত হয়।

আত্মশুদ্ধি ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের রূহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি রুখতে হবে

ক্যাম্পাসে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে বলে জানান বক্তারা। লক্ষ্য, শিক্ষাবান্ধব ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা। ইসলামকে তারা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

দুর্বলতা কাটিয়ে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের দাবি

বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার দুর্বলতা ও জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় এবং শিক্ষা খাতের সংকট দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি কল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আদর্শিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলে তারা মত দেন।

ক্যাম্পাস দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মুনতাছির আহমাদ বলেন, বিগত সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা, লেজুড়বৃত্তি, সন্ত্রাস এবং আদর্শহীনতার যে ধারা দেখা গেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি গড়ে সমাজ পরিবর্তনের ভিত্তি নির্মাণের ওপর জোর দেন তিনি।

শেষ কথা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ ক্যাম্পাসের রাজনীতি ও মূল্যবোধ ঠিক থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতি এবং ন্যায্যতার ভিত শক্ত হয়।

প্রশ্ন-উত্তর

১) সভায় মূল জোর কোথায় ছিল?
ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, আত্মশুদ্ধি এবং ক্যাম্পাসে নৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়েই বেশি জোর দেওয়া হয়।

২) শিক্ষার্থীরা কী করতে বলা হয়েছে?
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

৩) রাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে কী বলা হয়?
জবাবদিহি, ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে আদর্শিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons