হরমুজ প্রণালি ‘নো-গো জোন’ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে তেল সংকট এবং দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হবে। মধ্যপ্রাচ্যে এমন বাস্তব ঝুঁকির মধ্যেই ট্রাম্পের ইরাননীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আর বিকল্প পথে ওমানের একটি প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে।
হরমুজকে ঘিরে ঝুঁকির কথা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত উত্তরণে নতুন চিন্তাভাবনার আহ্বান এসেছে। যদিও মার্কিন হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি আরও ‘ভয়াবহ হামলার’ হুমকি দেন, তবু আলোচনার পথ স্পষ্ট হচ্ছে না—ফলে শান্তি প্রচেষ্টা বারবার ধাক্কা খাচ্ছে।
তেল ও এলএনজিতে চাপ পড়ার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ যদি কার্যত ‘নো-গো জোন’ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দামের উপর এবং ইউরোপে এলএনজি সংকটও দেখা দিতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার পকেটেও চাপ হয়ে আসবে।
ট্রাম্পের নীতিতে জনসমর্থন কম
একটি জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের ইরান নীতির পক্ষে জনসমর্থন ৩০ শতাংশের নিচে। ফলে ‘কঠোর নীতি’ কতটা বাস্তব ফল দিচ্ছে—এ নিয়ে বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। এই টানাপোড়েন প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ জ্বালানি দামের ওঠানামা অনেক কিছুর ব্যয় নির্ধারণ করে।
ওমানের ‘সামুদ্রিক পরিষেবা ফি’ প্রস্তাব
এদিকে বিকল্প পথে ভাবনার অংশ হিসেবে ওমান একটি ‘সামুদ্রিক পরিষেবা ফি’র প্রস্তাব দিয়েছে। লক্ষ্য—হরমুজ ঘিরে ঝুঁকি আরও না বাড়িয়ে চলাচলকে ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বের, কারণ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রুট স্থিতিশীল থাকলে ফ্লাইট, পণ্য পরিবহন, এবং সামগ্রিক বাজারে চাপ কম অনুভূত হয়।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজসংকট জ্বালানি বাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে জীবনযাত্রার খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দামেও চাপ পড়ে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত অনেকের আয় স্থিতিশীল থাকলেও ব্যয় দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রশ্ন হলো, উত্তেজনা কি কমবে, নাকি ‘নো-গো জোন’ আশঙ্কাই সত্য হবে। ওমানের প্রস্তাব যদি কার্যকর ব্যবস্থায় রূপ নেয়, তাহলে অন্তত অনিশ্চয়তা কমার পথ তৈরি হতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
ওমানের ‘সামুদ্রিক পরিষেবা ফি’ প্রস্তাবটা কী?
হরমুজ অঞ্চলের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি প্রস্তাব হিসেবে তা আলোচনায় এসেছে।
হরমুজ ‘নো-গো জোন’ হলে কার কী প্রভাব হতে পারে?
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়ে তেল ও এলএনজি সংকট এবং দাম বাড়ার শঙ্কা থাকে।
ট্রাম্পের নীতির বিষয়ে কেন আলোচনা হচ্ছে?
ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থানের পরও আলোচনা অস্পষ্ট থাকায় এবং জনসমর্থন কম থাকায় নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









