GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ‘নগদ’-এ ভাতার টাকা লোপাটের অভিযোগ, ২৪ হাজার ভুয়া ওয়ালেটের তথ্য পেল দুদক

‘নগদ’-এ ভাতার টাকা লোপাটের অভিযোগ, ২৪ হাজার ভুয়া ওয়ালেটের তথ্য পেল দুদক

‘নগদ’-এ ভাতার টাকা লোপাটের অভিযোগ, ২৪ হাজার ভুয়া ওয়ালেটের তথ্য পেল দুদক

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সরকারি ভাতার অর্থ লোপাট ও অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেট, ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, লোপাট করা অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে ‘নগদ’-পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে।

যেভাবে ভাতার টাকা সরানো হতো

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন ভাতার অর্থ ‘নগদ’-এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেটে ই-মানি হিসেবে পাঠানো হতো।

কোনো ভাতাভোগী বিভিন্ন কারণে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে টাকা উত্তোলন না করলে অর্থটি তার ওয়ালেটেই থাকার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, এসব পড়ে থাকা অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে মৃত্যু, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া কিংবা অন্যান্য কারণে পড়ে থাকা ই-মানি ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেটে স্থানান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

পরে এসব ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেট থেকে অর্থ সরানো হয় ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও ওয়ালেটে। সেখান থেকে আবার অর্থ স্থানান্তর করা হয় ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবে

দুদকের হিসাবে, এভাবে প্রায় ১ হাজার ৭০৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব থেকে বের করে আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিন বছরে বিতরণ ৩২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা

দুদক সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন ভাতার মোট ৩২ হাজার ৬৫০ কোটি ৭৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৪ টাকা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

এই সময়ের মধ্যে ভাতাভোগীদের একটি অংশ এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের অর্থ উত্তোলন করেননি। অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে এসব উত্তোলন না করা অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে

দুদকের নথিতে অর্থ সরানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে অন্তত আটটির নাম এসেছে।

এগুলো হলো অ্যাস্থেটিক ডেভেলপমেন্ট, এআরএ ডেভেলপার, ডিজিটাল সেন্টার ডিস্ট্রিবিউশন, কল্লোল ডিস্ট্রিবিউশন, এলবি নিটওয়্যার, পাইনউড ডিস্ট্রিবিউশন, রহমান ডিস্ট্রিবিউশন ও ইউডিসি ডিস্ট্রিবিউশন

দুদক সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পরে লোপাটের অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্তরে স্তরে স্থানান্তরের মাধ্যমে ঘোরানো হয়।

৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনার তথ্য

দুদকের অনুসন্ধানে আরও তথ্য পাওয়া গেছে, বিভিন্ন হিসাবে ঘোরানো ওই অর্থ ব্যবহার করে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড, যা পরবর্তীতে ‘নগদ লিমিটেড’ নামে পরিচিত হয়, তার ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনা হয়।

এসব শেয়ারের মূল্য প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকা

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সরকারি ভাতার অর্থ সরিয়ে নেওয়ার পর তা সরাসরি ধরে না রেখে কোম্পানির শেয়ারে রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে।

তানভীর আহমেদ মিশুকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ বের করে নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, শূন্য কুপন বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত মূলধন দিয়ে বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং নিজ ও স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

‘নগদ’-এর সঙ্গে ডাক বিভাগের চুক্তি

দুদক জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডকে চুক্তির মাধ্যমে ‘নগদ’ মোবাইল আর্থিক সেবার মাস্টার এজেন্ট নিয়োগ করে।

রাজস্ব ভাগাভাগির ওই চুক্তিতে ডাক বিভাগের অংশ ছিল ৫১ শতাংশ এবং থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিসের অংশ ছিল ৪৯ শতাংশ

পরবর্তীতে মাস্টার এজেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ‘নগদ’-এর কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ করে।

শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ

দুদকের আশঙ্কা ছিল, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

এ কারণে তানভীর মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার, যার মূল্য প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকা, অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন করে দুদক।

পরে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ সেপ্টেম্বর মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এসব শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর বা বিক্রি বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছিল।

Social Icons