প্রতিনিধি, দাউদকান্দি, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বড়মাছিমপুর গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা ও হাঁস-মুরগির খাঁচার সারি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের উঠানগুলো মুখর থাকে এসব পণ্য তৈরির কাজে। প্রায় ৫০টি হিন্দু পরিবার বংশপরম্পরায় বাঁশের তৈরি এসব পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
১৫০ বছরের ঐতিহ্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা প্রায় দেড় শ বছর আগে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। সময়ের সাথে নানা পরিবর্তন এলেও তারা এখনো এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। পরিবারের নারী ও পুরুষ সবাই মিলে এই কাজে অংশ নেন। কেউ বাঁশ কাটেন, কেউ ফালি করেন, আবার কেউ কুলা বা খাঁচা বুনেন।
বাঁশশিল্পে ভাগ্যবদল
বাঁশশিল্প শুধু তাদের জীবিকা নয়, বরং পরিবারের স্বচ্ছলতা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- জীবনযাত্রার মান: এই পেশার আয়েই অনেক কারিগর তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন।
- বিদেশে কর্মসংস্থান: পরিবারের অনেকেই বাঁশ বিক্রির টাকা জমিয়ে সন্তানদের বিদেশে (যেমন: বাহরাইন ও সৌদি আরব) পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।
- নারীদের অংশগ্রহণ: বিয়ের পর অনেক গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে দিন-রাত কাজ করছেন, যা সংসারের আয় বৃদ্ধি করেছে।
উৎপাদন ও বাজারচিত্র
কারিগরেরা স্থানীয় মাছিমপুর বাজার থেকে বাঁশ সংগ্রহ করেন। একটি বাঁশের উৎপাদন ক্ষমতা ও খরচ নিচে তুলে ধরা হলো:
| উপকরণের বিবরণ | তথ্য |
| বাঁশের ক্রয়মূল্য | ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা (প্রতিটি) |
| উৎপাদন ক্ষমতা | ১৫-১৮টি খাঁচা অথবা ২৫-৩০টি কুলা |
| সময় | ৫ থেকে ৭ দিন |
পণ্যগুলো স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। খুচরা বিক্রেতা রবিউলের মতে, এই সামগ্রীগুলো যেমন গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ, তেমনি তাদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বর্তমানে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে প্লাস্টিকের পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার কারিগরদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কারিগরেরা আশাবাদী যে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ পেলে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, কারিগরেরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন তাদের যথাসাধ্য সহায়তা করবে।









