ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনের সময় ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকায় এক পরিবার পরিকল্পনা সহকারীকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার সফরের আগে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হাসপাতালে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। বহির্বিভাগও পরিদর্শন করেন।
এ সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন মন্ত্রী। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত আছেন কি না, সেটিও দেখেন। হাসপাতালের পরিবেশও পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় পরিদর্শনের সময় রিনা আক্তার নামে এক পরিবার পরিকল্পনা সহকারীকে ডিউটিতে পাওয়া যায়নি। পরে তাকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনের সময় টিকাদান কেন্দ্র নিয়েও নির্দেশনা দেন তিনি। সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রাখতে বলেন। জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেন।
রোগীদের ব্যবহারের জন্য শৌচাগারের নষ্ট বেসিন দ্রুত মেরামতের নির্দেশও দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ভালো।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মানও সন্তোষজনক বলে জানান তিনি। চিকিৎসকদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, রোগী ও দর্শনার্থীরা সরকারি ওষুধ পাচ্ছেন। তবে একজন কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে হাসপাতাল
চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৩১ শয্যার হাসপাতাল চালু করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী হাসপাতালটি আরও আধুনিক করা হবে বলে জানান তিনি।
এ জন্য আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। প্যাথলজি সুবিধা বাড়ানো হবে।
নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থাও করা হবে। সব মিলিয়ে হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শিগগিরই হাসপাতালে একজন গাইনি চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকারের সমালোচনা
গত সরকারের আমলের স্বাস্থ্য খাত নিয়েও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তার অভিযোগ, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের চেয়ে দুর্নীতি বেশি হয়েছে।
তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অযত্নে পড়ে ছিল। এসব যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চরভদ্রাসনের ইউএনও মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
চরভদ্রাসন থানার ওসি মোহাম্মদ সফর আলীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।









