রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের মামলায় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এক দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (৩১ আগস্ট) তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দেন।
তাদের জামিন শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো দুই নেতা হলেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হাসেন শান্ত এবং বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ।
এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে
গত ৩০ আগস্ট দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক সাব্বির হোসেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চান।
আদালত প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে সোমবার তাদের আবার আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।
এসব তথ্য বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এতে মামলার তদন্ত বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।
মঙ্গলবার জামিন শুনানি
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল রহমান তাদের জামিনের আবেদন করেন।
তিনি মঙ্গলবার জামিন শুনানির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান।
পরে আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে তাদের জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।
যেভাবে ঘটেছিল স্বর্ণ ছিনতাই
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদীর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়াপ্রবাসী।
গত ২৮ আগস্ট তিনি পরিবারের ব্যবহারের জন্য মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান।
ওইদিন রাত ৮টার দিকে বাদী তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন।
পরে তারা ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে যান।
মাইক্রোবাস থেকে নামার সময় কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন।
এ সময় তাদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হয়।
তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয়।
পরে তাদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
আশপাশের লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে
গত ২৯ আগস্ট এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন মো. সুমন।
মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
তারা হলেন বিমানবন্দর ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেল।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের মধ্যে আল-আমিন শান্ত ও আব্দুর রউফকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
এখন তাদের জামিন শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




