নাটোরের লালপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার শ্রী সুন্দরী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু।
এমপিকে এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিদ্দিক আলী মিষ্টু অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিন তুলি জামায়াত, আওয়ামী লীগ এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে লালপুর-বাগাতিপাড়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ধানের শীষে ভোট না দেওয়া ব্যক্তি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।
প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ
অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধান অতিথির আসনে থাকা প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিদ্দিক আলী মিষ্টু তার বক্তব্যের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার অনুরোধ জানান।
তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া এমপি তুলির
সিদ্দিক আলী মিষ্টুর বক্তব্যের পর ওই রাতেই নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন সানজিদা ইয়াসমিন তুলি।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার দ্বারা লালপুর-বাগাতিপাড়ায় উন্নয়ন হচ্ছে—এটা অনেক বড় বড় নেতারা স্বীকৃতি দিয়েছেন।’
পাশাপাশি তিনি লেখেন, ‘তবে দুঃখ হয়, যারা পরের উসকানিতে নিজের রাজনৈতিক বলি হয়।’
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্দিক আলী মিষ্টুর বক্তব্যের সমালোচনা শুরু হয়।
তুলির অনুসারীদের প্রতিবাদ
সানজিদা ইয়াসমিন তুলির অনুসারীরা তার বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, তুলি বিএনপির রাজনীতিতে হঠাৎ করে আসা কোনো নাম নন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
ছাত্রজীবনে তিনি ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন।
আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার দাবি
তুলির অনুসারীদের আরও দাবি, বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা ও মামলাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবিও
তুলির অনুসারীরা তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা মরহুম আকতার হোসেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ছাত্রদল রাজনীতি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় সানজিদা ইয়াসমিন তুলি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন।
বহিষ্কারের দাবি
তুলির অনুসারীরা বলেন, এমন রাজনৈতিক পরিচয়ের একজন নারী সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উদ্বেগজনক।
এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মিষ্টুকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সানজিদা ইয়াসমিন তুলির অনুসারীরা।
মূল কথা
নাটোরের লালপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সিদ্দিক আলী মিষ্টুর বিরুদ্ধে। বক্তব্যটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং তুলির অনুসারীরা তার বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।





