বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়নের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশে নির্মিত মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ও সামাজিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন এলাকার তিন ব্যক্তি ও পরিবেশবাদী সংগঠন যৌথভাবে যুক্তরাজ্য সরকারের ব্যবসায়িক দায়িত্বশীল আচরণ বিষয়ক দপ্তরে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশগত ঝুঁকি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যাপ্ত যাচাই না করেই বন্ড ও ঋণের ব্যবস্থা করেছে বার্কলেস।
পরিবেশকর্মীদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের শিল্পবর্জ্য ও পারদসহ ক্ষতিকর ভারী ধাতু পশুর নদ ও আশপাশের জলভাগে ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
ইউনেস্কো ২০১৬ সালেই এই প্রকল্পের ফলে বাতাস ও পানিদূষণের কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
সামাজিক ও পরিবেশগত বিধ্বংসী প্রভাবের আশঙ্কায় ফ্রান্সের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক শুরুতেই এই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষক নেতা অনিমেষ মণ্ডল এবং দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম এই অভিযোগকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
লন্ডনের কিংস কলেজের মানবাধিকার ও পরিবেশবিষয়ক ক্লিনিকের আইনজীবীরা এই পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবেশবাদী প্রতিনিধিদের সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করছেন।
যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরটি অভিযোগটির প্রাথমিক তথ্যাদি যাচাই শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।





