GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / হাঁসের খোপ খুলতেই অজ্ঞান গৃহিণী, ভেতরে ছিল ১১ ফুটের অজগর

হাঁসের খোপ খুলতেই অজ্ঞান গৃহিণী, ভেতরে ছিল ১১ ফুটের অজগর

হাঁসের খোপে অজগর

প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে হাঁসের খোপ খুলতে গিয়েছিলেন এক গৃহিণী। খোপে ছিল নয়টি হাঁস। দরজা খোলার পর তিনটি হাঁস বেরিয়ে এলেও বাকি হাঁসগুলো বের হচ্ছিল না।

বিষয়টি দেখতে খোপের ভেতরে উঁকি দিতেই তার চোখে পড়ে বিশাল একটি অজগর। পাশে পড়ে ছিল একটি মৃত হাঁস। হঠাৎ অজগর দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যান ওই গৃহিণী।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকায়।

পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা গিয়ে প্রায় ১১ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সেটিকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

হাঁসের খোপে অজগর দেখে অজ্ঞান

গৃহিণীর স্বামী মোক্তার গাজী জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে তার স্ত্রী হাঁসের খোপ খুলতে যান।

খোপে থাকা নয়টি হাঁসের মধ্যে তিনটি বের হয়ে এলেও বাকিগুলো বের হচ্ছিল না। তখন খোপের ভেতরে উঁকি দিয়ে অজগর দেখতে পান তার স্ত্রী।

ভয় পেয়ে ‘সাপ, সাপ’ বলে চিৎকার করে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মোক্তার গাজী। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।

প্রায় ১১ ফুটের অজগর উদ্ধার

সকাল ৯টার দিকে বন বিভাগের সদস্য ও সিপিজির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তারা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অজগরটি নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার উৎসুক মানুষ মোক্তার গাজীর বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকে মুঠোফোনে অজগরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

দুটি হাঁস গিলে ফেলেছিল অজগর

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল সানা জানান, সকালে হাঁসগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডাকাডাকি করছিল।

পরে খোপের ভেতরে বিশাল অজগর দেখতে পাওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অজগরটি দুটি হাঁস খেয়েছিল এবং আরেকটি হাঁসকে পেঁচিয়ে ধরেছিল

তার ধারণা, বাড়ির পাশের সুন্দরবনের নদী সাঁতরে এসে খোপের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে অজগরটি ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে।

উদ্ধারের সময় বের করে দেয় হাঁস

অজগর উদ্ধারে অংশ নেওয়া সিপিজির সদস্য জুলেখা বেগম বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি ও আরেক সদস্য আবুল হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

প্রথমে তারা জায়গাটি ঘিরে রাখেন, যাতে কেউ অজগরের কাছে যেতে না পারেন। পরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে সেটিকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে সাপটির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। কেউ অজগরটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি অন্য জায়গায় চলে যেতে পারত এবং তখন উদ্ধার করা আরও কঠিন হয়ে যেত।

৩০ কেজি ওজনের অজগর

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি

অজগরটি সুস্থ ছিল। উদ্ধারের পর লোহার খাঁচায় রাখার সময় এটি গিলে ফেলা দুটি হাঁস মুখ দিয়ে বের করে দেয়।

পরে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে অজগরটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।

খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসতে পারে

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, খাবারের সন্ধানে অজগরটি সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোকালয়ের বাড়িঘরে ঢুকে অজগর সহজেই হাঁস-মুরগি ধরে খেতে পারে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় অজগরের লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা নতুন নয়।

সাপ দেখলে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পরামর্শ

মশিউর রহমান বলেন, বন্য প্রাণী হত্যা না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।

আগে সাপ দেখলে অনেকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন। এখন সাপ দেখা গেলে বন বিভাগকে খবর দেওয়া হচ্ছে। ফলে উদ্ধার হওয়া এই অজগরটিও প্রাণে বেঁচেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোকালয়ে এ ধরনের বন্য প্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ও বন্য প্রাণী, উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হাঁসের খোপ খুলতে গিয়ে ১১ ফুট লম্বা ও প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি অজগর দেখতে পান এক গৃহিণী। অজগরটি দেখে ভয় পেয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে বন বিভাগ ও সিপিজি সদস্যরা অজগরটি উদ্ধার করে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করেন।

Social Icons