চার বছরের অপেক্ষার অবসান, শুরু হলো ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পর্দা উঠেছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ, স্বপ্ন ও উন্মাদনাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম যৌথভাবে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—আয়োজন করছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। তিন স্বাগতিক দেশজুড়েই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ উৎসব।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার এক অনন্য সমন্বয় তুলে ধরা হয়। ওলমেক, মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনার পাশাপাশি আধুনিক মেক্সিকোর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিও স্থান পায় আয়োজনে।
আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনা, লোকজ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজশিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ হয় বাড়তি উন্মাদনা, যেখানে অংশ নেন বিশ্বখ্যাত একাধিক শিল্পী।
এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে টুর্নামেন্টে। তিন দেশের ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামও গড়েছে অনন্য এক কীর্তি। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালেও বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে এটি বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের গৌরব অর্জন করেছে।
কানাডার টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসেও আলাদা উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ উৎসব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উত্তর আমেরিকার তিন স্বাগতিক দেশে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোকসজ্জা এবং আন্তর্জাতিক তারকাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে এবার প্রতিটি ম্যাচের আগে বিশেষ প্রাক-ম্যাচ অনুষ্ঠান, উন্নত স্টেডিয়াম উপস্থাপনা এবং বৃহৎ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে ফিফা।
আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে হাফটাইম শো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবারের আসর ঘিরে আগ্রহ ও উন্মাদনা পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়।









