আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ২৩:৫৮ | প্রথম আলো
পুরো নব্বই মিনিটের খেলায় কিছু না ঘটলেও এই ম্যাচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে আলাদাভাবেই জায়গা করে নিত। কারণ এটি ছিল বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচ। আর এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের ম্যাচটিকে নিজেদের জন্য স্মরণীয় করে রাখল এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪–০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো এশিয়ান দেশের সর্বোচ্চ গোল দেওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ল জাপান। দলটির হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জোড়া গোল করেছেন আয়াসে উয়েদা। বাকি দুটি গোল এসেছে দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর পা থেকে।
অন্যদিকে জাপানের কাছে এই বড় ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তিউনিসিয়ার। কোচ বদলে ও ভাগ্য ফিরল না তিউনিসিয়ার মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়া আজ মাঠে নেমেছিল সম্পূর্ণ নতুন ফরাসি কোচ হার্ভে রেনারকে নিয়ে। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগের কোচ সাব্রি লামুশিকে বরখাস্ত করেছিল তিউনিসিয়ার ফুটবল ফেডারেশন।
গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের ডাগআউটে চমক দেখানো রেনারকে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি তিউনিসিয়ার ভাগ্য বদলাতে পারেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরে জাপান। খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই দাইচি কামাদার গোলে পিছিয়ে পড়ে আফ্রিকান দলটি। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পুরো ম্যাচ জুড়ে জাপানি আক্রমণের সামনে কেবল জাল সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে। আয়াসে উয়েদার জোড়া গোল ও জাপানের আধিপত্য ম্যাচের ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডে খেলা জাপানি ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদা। প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে এশিয়ান জায়ান্টরা। ৬৯তম মিনিটে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো।
এরপর ম্যাচের শেষ দিকে ৮৩তম মিনিটে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন উয়েদা। গ্রুপ ‘এফ’ এর বর্তমান সমীকরণ প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র করা জাপান এই বড় জয়ের পর নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা অনেক জোরাল করল।
বর্তমানে ‘এফ’ গ্রুপে জাপান ও নেদারল্যান্ডস উভয়েরই পয়েন্ট সমান চার করে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত তিউনিসিয়ার: এক ম্যাচ বাকি থাকতেই টুর্নামেন্ট থেকে তিউনিসিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ডাচদের হারাতে পারলেও সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে। অন্যদিকে সুইডেন যদি শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টেও আটকে থাকে, তবুও ‘হেড টু হেড’ সমীকরণে পিছিয়ে থাকার কারণে তিউনিসিয়ার পক্ষে গ্রুপে তৃতীয় হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
উৎস: প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ









