Home / দেশ / বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়: নাহিদ ইসলাম

বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়: নাহিদ ইসলাম

nahid

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এই বাজেটের মাধ্যমে আমরা যে মৌলিক অর্থনৈতিক সংস্কারের আশা করেছিলাম, তা বাস্তবায়ন হবে না। রাজনৈতিক সংস্কারের পর অর্থনৈতিক সংস্কার আসবে এমন প্রত্যাশা ছিল আমাদের। বাজেটে কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ দেখা গেছে। কিছু পণ্যে কর কমানো হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক। তবে আশঙ্কা করছি, এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়।’

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। সারা দেশে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুতের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা নজিরবিহীন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এত বড় পরিমাণে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আগে দেখা যায়নি।’ 

https://fe19328632393a20fbc6bbe0a0c5c57f.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

শনিবার চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন এবং নিত্যপণ্যের লাগাম টেনে ধরার দাবিতে আমরা দেশের প্রতিটি বিভাগে কর্মসূচি পালন করছি। পুরো মাসজুড়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কথা বলবো এবং কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুর্নীতি। এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে, তার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই বড় দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারদলীয় এমপিরা যে ধরনের বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধীদলীয় এমপিরা তা পাচ্ছেন না। কোথাও কোনও জবাবদিহিতা নেই, নেই স্বচ্ছতা। অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তব্যে আমরা দেখতে পাইনি কীভাবে ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধার করা হবে। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়ারা ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে আছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনও বক্তব্য আমরা পাইনি। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা শুধু সমালোচনা করছি না, আমরা বিকল্প প্রস্তাবনাও দিচ্ছি। আমাদের ছায়া বাজেট সেই প্রস্তাবনারই অংশ।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ট্রাইব্যুনালের বিচারের মাধ্যমে দলগতভাবে তাদের বিচার হবে। বর্তমানে আইনগতভাবেও দলটি নিষিদ্ধ। প্রশাসন যদি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তা উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বক্তব্য ও প্রচারণা চালানোর যে চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, সেটিও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু চট্টগ্রামে এসেছি, তাই চট্টগ্রামের কথাও বলতে চাই। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো নগরী জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সমস্যা। নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, তারা যেন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে।’

Social Icons